যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত ইসরায়েল ও হামাসের

ছবির উৎস, Reuters
ইসরায়েল ও গাযা ভূখন্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকা ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস দুপক্ষই বলেছে যে অপর দিক থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলে তারা যুদ্ধবিরতিতে রাজি আছে৻
টানা তিনদিন ধরে লাগাতার সহিংসতার পর শনিবার রাতটা ছিল তুলনামূলকভাবে শান্ত, এবং তার পর এদিন ইসরায়েল ও হামাস, দুপক্ষের দিক থেকেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে তারা সংঘর্ষ-বিরতিতে রাজি, যদি অবশ্য অন্য পক্ষ গোলাগুলি ছোঁড়া বন্ধ করে৻
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইহুদ বারাক প্রকাশ্যেই এই সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দেন তাঁর দেশের সরকারি রেডিওতে ভাষণ দিতে গিয়ে, এবং তিনি বলেন সেরকমটা হলে সবার জন্যই তা ভাল হবে৻
মি বারাক বলেন, ‘ওরা যদি আমাদের সম্প্রদায়ের ওপর গোলাগুলি ছোড়া বন্ধ করে, তাহলে আমরাও গোলাবর্ষণ থামিয়ে দেব৻ যদি ওরা পুরোপুরি তা থামিয়ে দেয়, তাহলে আবার এখানে শান্ত পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে – যেটা প্রত্যেকের জন্যই ভাল৻`
সহিংসতা বেড়েছে গত কয়েকদিনে
আসলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি সহিংসতার তীব্রতা বেড়েছে গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই৻
গত বৃহস্পতিবার যখন একটি ফিলিস্তিনি রকেট ইসরায়েলে একটি স্কুলবাসে আঘাত হানে, তখন একটি কিশোর তাতে নিহত হয় এবং সহিংসতা চরমে ওঠে৻
সেই হামলার জবাব দিতে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি এলাকায় পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করে, যাতে এযাবত প্রায় কুড়িজন ফিলিস্তিনি জঙ্গী বা বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন৻
এদিকে ইসরায়েলী সংবাদমাধ্যম এখন বলছে, হামাসের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে তারা যুদ্ধবিরতি চাইছে৻
ঠিক এর আগে হামাস একটি বিবৃতি দিয়ে এটাও বলে যে বৃহস্পতিবারের যে হামলায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে, বেসামরিক বাসটি আসলে তাঁদের সেই হামলার লক্ষ্য ছিল না৻
হামাসের অবস্থান
তবে হামাসের পক্ষ থেকে আল-কাসাম ব্রিগেডের একজন মুখপাত্র আবু ওবেইদা এটাও স্পষ্ট করে দেন যে যদি ইসরায়েলের দিক থেকে আক্রমণ অব্যাহত থাকে তাহলে যুদ্ধবিরতির কোনও আলোচনাই হবে না৻

ছবির উৎস, BBC World Service
মি ওবেইদা বলেন, ‘এই যে অপরাধী কর্মকান্ড এখন চলছে, তার জন্য দায়ী আমাদের ইহুদীবাদী শত্রুরাই৻ আমাদের শত্রুরা যদি এইসব অপরাধ চালিয়ে যায়, তাহলে আমাদের প্রতিশোধ নেওয়াও কিন্তু কেউ ঠেকাতে পারবে না৻`
তিনি আরও জানান, ‘ইসরায়েল যদি তাদের গণহত্যা চালিয়ে যায় তাহলে তাদের সাথে আমরা কোনও যুদ্ধবিরতির আলোচনা করতে পারব না৻ আমাদের লোকদের রক্ত খুবই দামী, তা আমরা বিফলে যেতে দিতে পারি না৻`
তবে গাযা সিটি থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জন ডনিসন জানাচ্ছেন, সেখানে হামাসের পক্ষ থেকে এটা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তারাও চান না সহিংসতার মাত্রা আরও বাড়ুক – এবং ইসরায়েল যদি তাদের আগ্রাসন থামায় তাহলে তাদের দিক থেকেও শান্তি বজায় রাখা হবে৻
যুদ্ধবিরতির পক্ষে জনমত
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি এলাকা, দুদিকেই আসলে যুদ্ধবিরতির পক্ষে জনমতও তৈরি হয়েছে৻
ইসরায়েলের একজন নাগরিক, সাম্প্রতিক ফিলিস্তিনি হামলায় যার বাড়ির একটা অংশ ধ্বংস হয়েছে, তিনি যেমন বলছিলেন শান্ত, স্বাভাবিক একটা জীবন কাটাতে পারাই শুধু তাঁর চাওয়া৻
ওই ব্যক্তি বলেন, ‘এটা কোনও জীবন নয়৻ এত সাঙ্ঘাতিক চাপের মধ্যে থাকা – আর পারা যায় না৻ আমরা একটা সহজ, স্বাভাবিক জীবন চাই, ইচ্ছেমতো বাইরে বেরোতে চাই, কাজকর্ম করতে চাই – আমাদের কাজ, পড়াশুনো সেরে দিনের শেষে একটা নিরাপদ, সুরক্ষিত জায়গায় ফিরতে চাই৻ কিন্তু যা চলছে তা তো স্বাভাবিক নয়!`
তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা যাই হোক, শেষ পর্যন্ত একটা যুদ্ধবিরতি সম্ভব হবে কি না তা অনেকটাই নির্ভর করছে গাযা ভূখন্ড থেকে সব ধরনের রকেট ও মর্টার ছোড়া হামাস বন্ধ করতে সক্ষম হয় কি না, তার ওপর৻ অতীতে তারা এটা নিশ্চিত করতে অনেকবারই ব্যর্থ হয়েছে৻








