লিবিয়ার প্রশ্নে সংকটে নেটো জোট

বার্লিনে শুরু হয়েছে নেটোর বৈঠক
ছবির ক্যাপশান, বার্লিনে শুরু হয়েছে নেটোর বৈঠক
Published

লিবিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের কৌশল নিয়ে আলোচনার জন্য বার্লিনে নেটো জোটের এক বৈঠক শুরু হয়েছে৻

বৈঠকে ব্রিটেন এবং ফ্রান্স জোটের অন্য সদস্য দেশগুলোকে লিবিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণে রাজী করানোর চেষ্টা করছে৻

লিবিয়ার ব্যাপারে সামরিক কৌশল কি হওয়া উচিত, তা নিয়ে জোটের মধ্যে মতবিরোধ খুবই স্পষ্ট৻

সামরিক জোট হিসেবে নেটো বিশাল বড়, ২৬টি দেশ এই জোটের সদস্য৻

কিন্তু এদের মধ্যে মাত্র ছয়টি দেশ লিবিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি বিমান হামলায় অংশ নিচ্ছে৻ এসব যুদ্ধ বিমানের আবার তিন চতুর্থাংশই যোগান দিচ্ছে ব্রিটেন এবং ফ্রান্স৻

কর্ণেল গাদ্দাফির বাহিনীর বিরুদ্ধে আকাশ থেকে হামলা চালিয়ে নেটো জোট এ পর্যন্ত লড়াইয়ে খুব সুবিধে করতে পারেনি৻ লিবিয়ার বিদ্রোহীরাও হতাশ, তারা মনে করছে নেটো তাদের যথেষ্ট সহায়তা করছে না৻

নেটোর সেক্রেটারী জেনারেল অ্যান্ডার্স ফগ রাসমুসেন অবশ্য দাবি করছেন, তারা তাদের সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৻

লিবিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় রাজী নয় অনেক সদস্য দেশ
ছবির ক্যাপশান, লিবিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় রাজী নয় অনেক সদস্য দেশ

"আমাদের উদ্দেশ্য লিবিয়ার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা৻ বেসামরিক প্রাণহানি এড়াতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি৻ লিবিয়ায় আমাদের অভিযান থেকে যেন সর্বোচ্চ ফল পাওয়া যায় সেব্যাপারেও আমরা সচেষ্ট৻"

ব্রিটেন এবং ফ্রান্স, দুটি দেশই মনে করে, লড়াইয়ের মোড় যদি তাদের পক্ষে আনতে হয়, তাহলে আরও অন্তত দশটি যুদ্ধ বিমান সেখানে দরকার৻

ইটালী, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডস এখন পর্যন্ত লিবিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি বিমান হামলায় অংশ নেয়নি৻

ব্রিটিশ পররাষ্ট মন্ত্রী উইলিয়াম হেগ এবং ফরাসী পররাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যালা ঝুঁপে এই তিন দেশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য চাপ দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে৻

কিন্তু নেটোর ভেতরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার ব্যাপারে৻ শুরুতে অভিযানে বড় ভূমিকা রাখলেও যুক্তরাষ্ট্র এখন লড়াইয়ের মূল দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর৻ যুক্তরাষ্ট্রের এই ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে নেটোর এই সম্মেলনে৻

তবে বার্লিন বৈঠকের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন লিবিয়ায় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তাদের অঙ্গীকারের কথা আবারও উল্লেখ করেছেন৻

তিনি বলেছেন, নেটো জোট আফগানিস্তানে যেভাবে এক সঙ্গে কাজ করেছে, ঠিক সেভাবে লিবিয়ায় কর্ণেল গাদ্দাফির শাসনের অবসানের লক্ষ্যেও এক সঙ্গে কাজ করবে৻

ওয়াশিংটন থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, মার্কিন কর্মকর্তারাও এখন স্বীকার করছেন যে, লিবিয়ায় সফল হতে হলে তাদের সামরিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে হবে৻

এদিকে লিবিয়ার বিরুদ্ধে নেটো জোটের এই অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছে বিশ্বের পাঁচটি ‌উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তির জোট ব্রিকস৻ এই জোটে আছে চীন, রাশিয়া, ভারত, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা৻

চীনে এই পাঁচ দেশের নেতাদের এক বৈঠকের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেডভিয়েডেফ বলেছেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের যে প্রস্তাব, তাতে সেখানে সামরিক অভিযান চালানোর কোন অনুমতি দেয়া হয়নি৻ তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ উপায়েই লিবিয়ার সংকটের সমাধান খুঁজতে হবে৻

লিবিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ব্যাপারে শুধু ব্রিকস নয়, নেটোর অনেক সদস্য দেশেরও অস্বস্তি আছে৻

কর্ণেল গাদ্দাফির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরালো করার ক্ষেত্রে নেটোকে এই বিষয়টাও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে৻ সব মিলিয়ে লিবিয়ার সংকট নেটো জোটের সংহতির জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে৻