বাংলাদেশে ঝুঁকিপ্রবণ নির্মাণখাত

    • Author, ফারহানা পারভীন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বৃহস্পতিবার পালিত হয়েছে বিশ্ব পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস৻

bangla buidling
ছবির ক্যাপশান, ভবন নির্মাণকাজে বেশিরভাগ সময়েই শ্রমিকরা কাজ করেন নিরাপত্তা উপকরণ ছাড়া

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য কর্মক্ষেত্রে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটিয়ে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্বুদ্ধ করা।

বাংলাদেশে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে তারা নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করে প্র্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

কিন্তু শ্রমিকরা বলছে কিছু বড় প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যরা তাদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার বিষয়ে একেবারেই উদাসীন।

ঢাকায় একটি ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শনের সময় দেখা গেল নিরাপত্তা উপকরণ ছাড়াই কাজ করছেন শ্রমিকরা৻

তিন বছর ধরে চলা এই ভবনের নির্মাণকাজে প্রতিদিন কাজ করছে প্রায় দুশয়ের মত শ্রমিক।

তাদের একজন আব্দুল মালেক নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে ১০ বছর এখানে কাজ করছেন। আর তিনি কাজ করছেন কোনরকম নিরাপত্তা উপকরন ছাড়াই।

তাঁর কাজ মূলত প্লাস্টার করা, ইঁট ভেজানো, ও ইঁটের গাঁথঁনি দেওয়া৻

‘ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি, কিস্তু কি করব আমাদের তো কাজ করে খেতে হবে।‘ বললেন আব্দুল মালেক৻

বহুতল ভবন নির্মাণের সময় বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করলেও আব্দুল মালেকের মত যারা নির্মাণ শ্রমিক রয়েছেন তারা জানেন না কীভাবে নিরাপদে কাজ করতে হবে বা প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কীভাবে সঙ্গে নিতে হবে।

শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কাজ করা আরেকজন শ্রমিক মোহাম্মদ শহীদ বলছিলেন, মনে ভয় নিয়েই কাজ করেন, ঝুঁকি থাকে জেনেও৻

নিরাপত্তা উপকরণের সরবরাহ নিয়ে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, মোনেম বিজনেস ডিসট্রিক্ট এর কর্মকর্তা সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বললেন তারা শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সরবরাহ করে থাকেন।

‘নির্মাণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন সেফটি বেল্ট, হেলমেট, গামবুট সব কিছু সরবরাহ করা হয় এবং শ্রমিকরা এগুলো পরে কাজ করছেন কীনা সেটাও নিয়মিত মনিটর করা হয়।` মন্তব্য করেন সৈয়দ মনিরুল ইসলাম৻

কিন্তু নির্মাণ শ্রমিক আব্দুল মালেক বলছিলেন কিছু বড় কোম্পানি তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিলেও বাকিরা এ ব্যাপারে উদাসীন এবং কোন দুর্ঘটনা হলেও যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় সেটাও খুব সামান্য এবং প্রাথমিক।

‘কিছু কিছু কোম্পানি সুবিধা দেয়। বেশিরভাগই এড়িয়ে যায়। আর দুর্ঘটনা হলে প্রথমে কিছু সাহায্য করে পরে আর খোঁজ নেয় না।`

প্রতিদিন এইরকম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেসব শ্রমিক কাজ করছেন, তারা বলছেন ছোট বড় যে প্রতিষ্ঠানেই তারা কাজ করুক না কেন সবাই যাতে তাদের নিরাপত্তার দিকটা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা উপকরণ সরবরাহ করে, সেটা নিশ্চিত করা উচিত।