ব্যাঙ্কের ভুলে কোটিপতি হলেন স্কুলশিক্ষক!

ছবির উৎস, bbc
- Author, অমিতাভ ভট্টশালী
- Role, বিবিসি বাংলা, কলকাতা
- Published
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একজন স্কুল শিক্ষক হঠাৎ করে কোটিপতি হয়ে গেছেন! দু এক কোটি নয় – রাতারাতি উনপঞ্চাশ হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়া ওই শিক্ষক পারিজাত সাহার মাস মাইনে কিন্তু পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা৻
তিনি কোনও গুপ্তধনের খোঁজ পান নি, লটারি জেতেন নি, বা কোনও বড়সড় প্রতিযোগিতায় জয়লাভও করেন নি৻ কিন্তু তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই বিপুল পরিমাণ টাকা জমা হয়েছে৻
মি. সাহা বিবিসিকে বলছিলেন যে প্রতি মাসে হাজার টাকা করে জমাচ্ছিলেন একটা রেকারিং অ্যাকাউন্টে৻
হঠাৎই কিছু টাকার প্রয়োজন হয় আর তিনি ঠিক করেন যে ওই রেকারিং ডিপোজিটটা ভাঙিয়ে ফেলবেন৻ সেটা করতেই স্টেট ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটে লগ ইন করেছিলেন মি. সাহা, রবিবার সন্ধ্যাবেলায়৻
“আর তখনই দেখলাম দশ হাজার টাকার বদলে একাউন্টে জমা হল ৪৯ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা৻ অবাক তো হয়েইছিলাম”, বলছিলেন পারিজাত সাহা৻
এত বড় অঙ্ক যে সেটা গুনতেও সমস্যা হচ্ছিল তাঁর!
মি. সাহার কথায়, “বুঝতেই পারছিলাম যে কোনও গন্ডগোল হয়েছে৻ স্টেট ব্যাঙ্কে কর্মরত এক বন্ধুকে ফোন করে ঠাট্টাছলেই বলি যে তোদের ব্যাঙ্কের কি টাকা বেশী হয়ে গেছে!”
কিন্তু হঠাৎ করে কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক বানিয়ে দেওয়া এই অত্যাশ্চর্য ঘটনাটা ঘটল কী ভাবে?
স্টেট ব্যাঙ্কের যে বালুরঘাট শাখায় মি. পারিজাত সাহার অ্যাকাউন্ট আছে, সেখানকার প্রধান ম্যানেজার জানিয়েছেন যে ওই ব্যাপার কোনও মন্তব্য করতে তাঁকে নিষেধ করা হয়েছে৻

ছবির উৎস, bbc
তবে কলকাতায় স্টেট ব্যাঙ্কের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে যে নিজের অ্যাকাউন্টে ওই বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পেলেও মি. সাহার পক্ষে সেটা তুলে নেওয়া সম্ভব ছিল না.. কারন ওটা আনক্লিয়ার্ড অ্যামাউন্ট হিসাবে দেখানো ছিল৻
এদিকে ঘটনাটার খবর পেয়েই কলকাতা – মুম্বই জুড়ে স্টেট ব্যাঙ্কে তদন্ত শুরু হয়েছে, গলদটা কোথায় ছিল৻
গলদ যে কোথাও আছে, স্কুল শিক্ষক পারিজাত সাহা সেটা বুঝতে পেরে নিজেই ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের জানান, কিন্তু নিউজিল্যান্ডে বছর কয়েক আগে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভুলবশত জমা হওয়া প্রায় সওয়া পাঁচ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছিলেন সেদেশের এক নাগরিক৻
পরে হংকং-এ ধরা পড়েন তিনি আর ঘটনাটার প্রায় দুবছর পরে গত ডিসেম্বরে তাঁকে নিউজিল্যান্ডে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে বিচার শুরু হয়েছে৻
কিন্তু মি. পারিজাত সাহা এখন খুশি কারন তাঁর নিজের প্রয়োজন ছিল যে হাজার দশেক টাকার, সেটা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে আর ব্যাঙ্ক অবশেষে ফিরিয়ে নিয়েছে ৪৯ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা৻








