বিদেশী এনজিও কর্মীদের বিচার করবে মিশর

Published

মিশরে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে অর্থ সাহায্য দিয়ে সেদেশের চলমান বিক্ষোভকে উসকে দেওয়ার অভিযোগে ৪৩ জনকে বিচার করবে দেশটি।

মিশরের সামরিক সরকার এরই মধ্যে কয়েকটি বিদেশী বেসরকারি সংস্থাতে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঐ দেশ ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

egypt
ছবির ক্যাপশান, বেসরকারী সংস্থাতে সেনাবাহিনীর তল্লাসি

এদিকে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আমেরিকা বলছে তারা বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

মিশর বলছে তারা আমেরিকান নাগরিক সহ ৪৩ জন বিদেশিকে বেসরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সরকার বিরোধী আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে বিচার করবে।

মিশরের ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিল অভিযোগ করছে তাদের বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভ করছে সেই সব বিক্ষোভ কারীদের অর্থ সাহায্য দিচ্ছে এই সব বিদেশী সংস্থা।

তারা বেশ কয়েকটি বিদেশী বেসরকারি সংস্থাতে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঐ দেশ ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আমেরিকা বলছে তারা বিষয়টিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

বিবিসির একজন সংবাদদাতা বলছিলেন এর যথাযথ ব্যাখা চায় আমেরিকা।

তিনি বলছিলেন স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে বলা হয়েছে আমেরিকা এই বিষয়টিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং তারা মিশরের কাছ থেকে এর যথাযথা ব্যাখ্যা চায়।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মিশরের সরকারকে এই এনজিও কর্মীদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তুলে নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

তারা বলছে মিশর এখন জিম্বাবুয়ে এবং ইথিওপিয়ার কৌশল অনুসরণ করে নিরপেক্ষ মতামত প্রকাশের পথ কে বাধাগ্রস্ত করছে।

৪৩ জনের মধ্যে আমেরিকার যানবাহন বিষয়ক মন্ত্রীর ছেলে অভিযুক্ত থাকায় দুই দেশর মধ্যে সম্পর্কের শীতলতা তৈরি হতে পারে বলে বিবিসির ঐ সংবাদদাতা জানিয়েছেন।

তিনি বলছিলেন এ ঘটনায় মিশর এবং আমেরিকার মধ্যকার ৩০ বছরের সম্পর্কের অবনতি হতে পারে।

এবং গণতন্ত্রের পথে উত্তরণের ব্যাপারে যদি মিশর অগ্রসর না হয় তাহলে দেশটি দেড় বিলিয়ন ডলার আমেরিকান সাহায্য হাতছাড়া করবে।

মিশর কর্তৃপক্ষ এমন সময়ে এ ঘোষণা দিল যখন সেখানে চতুর্থ-দিনের মত বিক্ষোভ চলছে।

গত সপ্তাহে ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে এক দাঙ্গায় ৭৪ জনের নিহত হওয়ার ঘটনার পর সেখানকার জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে।

এ সময় সেন্ট্রাল কায়রোতে বিক্ষোভকারীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যরা তাদেরকে লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।