বাংলাদেশ সীমান্ত বিচিত্র: বিএসএফ প্রধান

bsf chief
ছবির ক্যাপশান, বিএসএফ মহাপরিচালক ইউ কে বনসাল
    • Author, অমিতাভ ভট্টশালী
    • Role, বিবিসি বাংলা, কলকাতা
  • Published

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের মৃত্যু নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে বিএসএফের প্রধান কার্যালয়ে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেছেন বাহিনীর মহাপরিচালক ইউ কে বনসাল৻

পাকিস্তানের মত চরম বৈরী দুই দেশের সীমান্তের চেয়ে বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ কেন গুলি চালাচ্ছে এবং মানুষ মারা যাচ্ছে - এ প্রশ্নে ইউ কে বনসাল বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তের পরিস্থিতি বিচিত্র এবং ব্যাতিক্রমী৻

“পূর্ব সীমান্তে পরিস্থিতিটাই ব্যতিক্রমী৻ একই বিএসএফ সদস্য পাকিস্তান সীমান্তে অনেক দিন কাজ করেও গুলি চালান না৻ কিন্তু যখন তিনি বাংলাদেশ সীমান্তে আসেন, তখন তাঁকে গুলি চালাতে হয় বা বলপ্রয়োগ করতে হয়৻ পরিস্থিতির জন্যই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে৻“

`বাংলাদেশের সহযোগিতা জরুরি`

তাহলে কি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গুলি কখনই বন্ধ হবে না? এ প্রসঙ্গে বিএসএফ প্রধান বলেন, যতদিন সীমান্তে অপরাধামূলক কাজ চলতে থাকবে ততদিন গুলি চালানো বা বলপ্রয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়৻

“বিএসএফের দায়িত্ব অপরাধিদের আটকানো, তাই অপরাধ যতক্ষণ চলবে, বিএসএফকে ব্যবস্থা নিতেই হবে৻ ভারত সরকারের সার্বভৌম দায়িত্ব তার সীমানা রক্ষা করা, সেই দায়িত্বটাই বি এস এফ পালন করছে৻”

এই প্রসঙ্গে ইউ কে বনসাল বলেন, সীমান্তে অপরাধ বন্ধে বাংলাদেশের সহযোগিতা খুবই জরুরি৻

“বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডসের কাছে বারবার সাহায্য চাওয়া হচ্ছে যাতে তারা কড়া পাহারার ব্যবস্থা করে৻ তাহলেই দুষ্কৃতিরা সীমান্ত পেরতে পারবে না৻ আর যদি কেউ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের দিকে না আসে, তাহলেই বিএসএফকে আর গুলি চালাতে হবে না৻“

bsf
ছবির ক্যাপশান, সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ টহল

ইউ কে বনসাল জানান, গতবছর দুই বাহিনীর প্রধানের মধ্যে যৌথ সীমান্ত প্রহরার চুক্তি সই হয়েছে৻ তার পরপরই বিএসএফ জানিয়ে দিয়েছে কোন জায়গাগুলোতে যৌথ প্রহরার প্রয়োজন আছে৻

সীমান্তে কে্উ গেলেই কেন ধরে নেওয়া হবে যে তিনি অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত? বিবিসি বাংলার এই প্রশ্নে মিঃ বনসাল বলেন, রাতের বেলায় সীমান্তে ১৪৪ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকে এবং কোন নিরপরাধ ব্যক্তির সেই সময়ে সীমান্ত পেরুনোর কথা নয়৻

“ওই সময়ে যদি কাউকে সীমান্ত পেরুতে দেখা যায়, তাহলে ধরেই নেওয়া হবে যে তিনি অপরাধমূলক কাজ অথবা দেশদ্রোহী কোনও কাজ করতে গেছেন৻ তখনই বি এস এফের দায়িত্ব এসে যায়৻ বাহিনীর সদস্যরা সেই দায়িত্বটাই পালন করছেন৻”

বিএসএফের সদস্যরা এক বাংলাদেশী সন্দেহভাজন গরুপাচারকারীর ওপরে অত্যাচার চালাচ্ছেন – এরকম একটি ভিডিও সম্প্রতি ফাঁস হওয়ার পর তা নিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে দেশে বিদেশে ব্যপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে৻

`ভিডিওর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হবেনা`

এই ভিডিও প্রসঙ্গ তুললে, বিএসএফ প্রধান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং তাঁর বাহিনী কখনোই এধরনের আচরণ বরদাস্ত করবে না৻

তিনি বলেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৻ “ঘটনাটিকে কখনোই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে না৻”

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউমান রাইটস ওয়াচ অভিযুক্তদের শাস্তির যে দাবী তুলেছে সেই প্রসঙ্গে ইউ কে বনসালের মন্তব্য ছিলো, “যে কারোরই কোনো দাবী তোলার অধিকার রয়েছে৻ তবে বি এস এফের সদস্যরা ভারতীয় পার্লামেন্টের তৈরী করে দেওয়া আইন অনুযায়ী চলবে৻ সেই নিয়ম অনুযায়ী ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্টাফ কোর্ট অফ এনকোয়ারি চলছে৻ তারপরে চার্জ গঠন হবে আর বিচার চলবে৻“

তিনি বলেন, ভারতের যে কোনো বেসামরিক সরকারী দপ্তরের থেকেও কড়া আইন বিএসএফের৻

“সেই আইন অনুযায়ী বাহিনী থেকে অপসারন থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড পর্যন্ত হতে পারে৻ আর এই ধরনের সাজা বিএসএফ দিয়েও থাকে৻ তাই কোনও মানবাধিকার সংগঠনের এরকম ভাবা উচিত নয় যে ঐ ভিডিওর ঘটনায় যুক্তদের কোনরকম ছাড় দেওয়া হবে৻”