'পদ্মা সেতু দুর্নীতির তদন্ত শেষ হচ্ছে'

ছবির উৎস, no
- Author, ওয়ালিউর রহমান মিরাজ
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
বাংলাদেশে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত আগামী মাস দেড়েকের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বিবিসিকে বলেছেন, তাঁরা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে কয়েকজনের ব্যাপারে তথ্য পেয়েছেন এবং খুব শিগগির ক্যানাডার কর্মকর্তারা তাদের তদন্তে পাওয়া তথ্য কমিশনের কাছে হস্তান্তর করবেন।
ক্যানাডিয়ানদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে পদ্মা সেতু সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের সুরাহা করা যাবে বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মনে করছেন।
ক্যানাডিয়ান কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শকের কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি এবং এর বিনিময়ে সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল বিশ্বব্যাংক।
এ নিয়ে ক্যানাডায়ও একটি তদন্ত চলে এবং দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হয় বাংলাদেশেও। এই তদন্ত চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
ক্যানাডায় তদন্তে অগ্রগতির পর বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে সেদেশের কর্মকর্তারা দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে কয়েকটি নাম পাঠিয়েছেন এবং কমিশন এখন তাদের ব্যাপারে তদন্ত চালাচ্ছে।

কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন, নতুন কিছু সন্দেহভাজনকে তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। তিনি জানান, ক্যানাডিয়ানদের তদন্ত শেষ হতে দেরি হওয়ার কারণে তাঁরাও এগুতে পারছিলেন না।
তিনি বলেন, “এখন তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে, আর আমরা নতুন করে যেসব সন্দেহভাজনের নাম পেয়েছি কিংবা যারা ঐ প্রতিষ্ঠানের জন্যে এখানে কাজ করেছেন, তাদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।“
মিঃ রহমান বলেন, ক্যানাডার কর্মকর্তাদের তদন্তে পাওয়া নামগুলো বিশ্বব্যাংক তাদের জানিয়েছে।
তিনি নামগুলো প্রকাশ করতে রাজি না হলেও দুর্নীতি দমন কমিশন নতুন করে যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী এবং জাতীয় সংসদের একজন হুইপের ভাই নিক্সন চৌধুরী।
গণমাধ্যম এদের ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশ ছাড়াও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সহ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেছে। মিঃ হোসেন অবশ্য নতুন করে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, বিষয়টি তদন্তে তাঁরা ক্যানাডার তদন্তকারীদের কাছে সরাসরি সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ক্যানাডিয়ানরা বাংলাদেশকে সাহায্য করতে রাজি হয়েছে এবং তদন্ত সংক্রান্ত কাগজপত্র দিতে রাজি হয়েছে।
“তদন্তকারীদের মধ্যে একজন এসব কাগজপত্র আমাদের হাতে তুলে দেবেন। চলতি মাসের ২৬ তারিখ কিংবা আগামী মাসের শুরুতে তিনি ঢাকায় আসবেন।“

ছবির উৎস, no
দুর্নীতি দমন কমিশন অবশ্য এর আগে মূল সেতুর নির্মাণ ঠিকাদারদের প্রি-কোয়ালিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে জানিয়েছিল যে তারা দুর্নীতির কোন প্রমাণ পায়নি।
এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল বলে জানান মিঃ রহমান।
তবে তিনি আশাবাদী, আগামী মাস দেড়েকের মধ্যে দ্বিতীয় এই অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শেষ করা যাবে।
তিনি বলেন, ক্যানাডিয়ানরা যেহেতু একটি মামলা করেছে, তাই তাদের ক্লু ধরে এগোলে আমরাও সত্য উদঘাটন করতে পারবো।
“আমরা জানতে পারবো কেউ কিছু দাবী করেছিল কিনা। তবে আমাদের আইনের কাঠামোর মধ্যে আমাদের এগুতে হবে। ক্যানাডিয়ান আইন আর আমাদের আইন তো একরকম নাও হতে পারে।“
প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক একাই ১২০ কোটি ডলার ঋণ দেবে বলে কথা রয়েছে। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সংস্থাটি তাদের ঋণ-সহায়তা স্থগিত রেখেছে।
সরকার অবশ্য আগামী মাসের মধ্যেই অর্থায়ন নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসতে চাইছে।








