জাতীয় ঐক্যে জোর দিলেন মুরসি

mursi
ছবির ক্যাপশান, বিজয়ীর ভাষণ দিচ্ছেন মুহাম্মদ মুরসি
Published

মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসি তাঁর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

ক্ষমতাচ্যুত হোসনি মুবারক কয়েক দশক ধরে যে অফিসে বসে দেশ শাসন করেছেন ফলাফল ঘোষণার পরদিনই সেই অফিসে গিয়ে উঠেছেন মি মুরসি।

জেতার পরপরই জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছেন মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থন নিয়ে বিজয়ী প্রেসিডেন্ট মুরসি।

মোহাম্মদ মুরসি প্রথমে মিশরে গত দেড় বছর ধরে যে গণআন্দোলন চলছে, তাতে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

পাশাপাশি তিনি প্রশংসা করেছেন শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর। সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ হোসেইন তানতাওয়ি, মি. মুরসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শোনা যাচ্ছে তিনি নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী এবং মিশরের প্রখ্যাত রাজনীতিক মোহাম্মদ আল বেরাদেইয়ের সাথেও কথাবার্তা বলবেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি যে ভাষণ দিয়েছেন সেখানে তিনি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে যে আগামী ৩০শে জুন তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তবে এই প্রেসিডেন্টকে কতোটা ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে না হচ্ছে তা নিয়ে এখনও অনেক সংশয়, প্রশ্ন এসব রয়ে গেছে।

কারণ ক্ষমতাসীন সামরিক পরিষদ প্রেসিডেন্টের অনেক ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিয়ে গেছে। কোথায় শপথ নেবেন নেটাও স্পষ্ট নয়, কারণ সংসদও ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের হাতে কতোখানি ক্ষমতা থাকবে সেটা নির্ধারণের জন্যেও তার হাতে স্থায়ী কোনো সংবিধান নেই।

সারা বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

নতুন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। ওয়াশিংটন বলছে যে, গণতন্ত্রের অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার পথে, মিশরের জন্যে এটা একটা মাইলফলক।

বেসামরিক সরকারের কাছে সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যেও সামরিক পরিষদের কাছে আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

jp_moon
ছবির ক্যাপশান, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন

একই সাথে, মিশরের সংখ্যালঘু সকল ধর্মের মানুষ ও নারীর অধিকারের দিকে দৃষ্টি রাখার কথাও বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বলছে, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় মিশর তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলেই তারা আশা করছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, বৃহত্তর গণতন্ত্রের জন্যে মিশরের জনগণের মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়েছে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে নতুন প্রেসিডেন্ট কাজ করবেন বলে জাতিসংঘ আশা করছে।

ইসরায়েল বলেছে যে, ১৯৭৯ সালে যে শান্তিচুক্তি হয়েছিলো তার ভিত্তিতে তারা মিশরের সাথে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

আর গাজার প্রধানমন্ত্রী ও হামাস নেতা ইসমায়েল হানিয়ে বলছেন যে মিশর ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াবে বলেই তাদের বিশ্বাস।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগও এই নির্বাচনকে ঐতিহাসিক ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।