নিজস্ব অর্থেই পদ্মাসেতু নির্মাণ শুরু হবে

বাংলাদেশে আজ সরকার নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।
সিদ্ধান্তে আরো বলা হয়, এ প্রকল্পে অর্থায়ন করা বা ঋণচুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকার বিশ্বব্যাংককে আর অনুরোধ করবে না।
বৈঠকটির পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব সংবাদমাধ্যমকে জানান, যত দ্রুত সম্ভব এই নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
অন্যদিকে আজই অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিতের সাথে ১৮টি দাতা দেশ ও সংস্থার এক বৈঠক হবার কথা, যেখানে পদ্মা সেতু নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া দুর্নীতির 'বিশ্বাসযোগ্য' প্রমাণ পাবার দাবি করে বিশ্বব্যাংক গত মাসে এই সেতৃ নির্মাণের ঋণচুক্তি বাতিল করে দেয়। বিশ্বব্যাংকের পর এডিবিও এ প্রকল্প থেকে সরে যায়।
এর পর এ প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে বাংলাদেশে যখন ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে, তার মধ্যেই সরকার নিজস্ব অর্থায়নে সেতু তৈরির এ সিদ্ধান্ত নিল।

ছবির উৎস, no
পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ১২০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার কথা ছিল, ফলে এটি ছিল বিশ্বব্যাংকের সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প। বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পর সে সময়কার যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সংসদকে জানান, ভুমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।
রোববার ঢাকায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী দিবসে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি পদ্মা সেতুর অর্থায়ন জটিলতা প্রসঙ্গে রোববার এক ভাষণে দীর্ঘসূত্রিতার জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার কথাও বলেন।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছর থেকেই নিজস্ব অর্থায়নে ঐ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। তিনি পদ্মা সেতুর সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ধরে কত টাকা অর্থায়ন করতে হবে তার হিসেব তুলে ধরেন।
স্পিকারের কর প্রস্তাব
রোববার সংসদের অধিবশেনে স্পিকার আব্দুল হামিদ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে মোবাইল কলের ওপর করারোপের সুপারিশ করেন।
তিনি বলেন, দেশে ব্যবহৃত প্রতিটি মোবাইল কলের ওপর ২৫ পয়সা হারে সকল গ্রাহকদের থেকে অর্থ আদায় করলে নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতু নির্মাণ সম্ভব হবে।
বিশ্বব্যাংক ঋণ স্থগিত করার পর বাংলাদেশ পদ্মা সেতু নির্মাণে মালয়েশিয়ার সঙ্গে কথা-বার্তা শুরু করে। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই চুড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে খসড়াও পেশ করা হয়েছে।








