মুরসি'কে সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা

ছবির উৎস, s
মিশরের সামরিক পরিষদ এক বিবৃতিতে দেশের সংবিধান সমুন্নত রাখার আহবান জানিয়েছে।
দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি আদালতের রুলিং উল্টে দিয়ে এক বিস্ময়কর ডিক্রি জারি করে পার্লামেন্টকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিক্রিয়ায় সামরিক কাউন্সিল এই বিবৃতি দেয়।
বিবৃতিতে মিশরের সামরিক কাউন্সিল বলছে পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে তারা দেশটির সাংবিধানিক সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছে এবং সবারই উচিৎ এই রুলিং মেনে চলা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক পরিষদের বিশ্বাস দেশটির সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।
সরকারের মুখোমুখি আদালত ও সেনাবাহিনী
এর আগে পুনরুজ্জীবিত পার্লামেন্টের অধিবেশন ডাকার পর সরকার ও সেনাবাহিনীর সম্পর্কে চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনীর ইচ্ছে অনুসারেই গতমাসে পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়া হয়েছিল।
কিন্তু তা অগ্রাহ্য করে গতকালই মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থনে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি সংসদের অধিবেশন ডাকার নির্দেশ জারী করেন।
এর পর সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পরিষদ সুপ্রিম কাউন্সিল দফায় দফায় বৈঠক করে।
সোমবার আরো আগের দিকে পার্লামেন্ট ভবন ঘিরে থাকা সৈন্যদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয় এবং এমপিদের ঢুকতে দেয়া হয়।

পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি আদেশ জারি করা হয়, যেখানে বলা হয় তারা যে সংসদ ভেঙে দিয়েছিলো সেটা মানা বাধ্যতামূলক। প্রেসিডেন্ট মুরসির দেওয়া আদেশকেও এই আদালত প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ ঘটনার মধ্যে দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায়ই প্রেসিডেন্ট মুরসি সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগের সাথেও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লেন।
মিশরে গত তিরিশ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। সবারই একটা দৃষ্টি ছিলো যে তিনি কতোটা কি করতে পারেন। কারণ তার আসলেই কতোটা কী ক্ষমতা সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা ছিলো না।
আজ পার্লামেন্টের অধিবেশন?
প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পার্লামেন্টের স্পিকার মোহামম্দ সাদ আল-কাতাতনি আজ মঙ্গলবার অধিবেশন ডেকেছেন।
উদারপন্থী যেসব দল আছে তার এমপিরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের আদেশ সংবিধানবিরোধী নয় এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই তারা পার্লামেন্টে যাবেন।
কিন্তু ইসলামপন্থী মুসলিম ব্রাদারহুড আর সালাফিস্ট দলগুলোর এমপিরা অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
কায়রো থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জন লাইন বলছেন, এখন দেখার বিষয় হচ্ছে সামরিক বাহিনীর সাথে রাজনৈতিক কোনো সমঝোতা হয় কীনা।
এছাড়াও আরো একটি সমঝোতার বিষয়ে আলোচনায় আছে। আর সেটা হচ্ছে সংক্ষিপ্ত এক অধিবেশনের পর প্রেসিডেন্ট নিজেই হয়তো এই পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে পারেন।








