লিমনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ মানবাধিকার কমিশন

ছবির উৎস, No credit
- Author, ওয়ালিউর রহমান মিরাজ
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
বাংলাদেশে র্যাবের গুলিতে আহত ছাত্র লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে মন্দ অভিপ্রায়ে চুপিসারে এই অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করা হয়েছে।
তবে মামলায় সরকারী আইনজীবী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করার জন্যেও মানবাধিকার কমিশন সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে।
পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছিল ঝালকাঠী জেলার রাজাপুরের লিমন হোসেনের। আর ঐ ঘটনা পুরো দেশে আলোচনার ঝড় তোলে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা দুটো মামলার মধ্যে অস্ত্র মামলায় আগেই অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছিল। আর সরকারি কাজে বাধা দেয়ার মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে পহেলা জুলাই।
লিমন হোসেনের আইনজীবী মানিক আচার্য অভিযোগ করেন, গোপনে এই অভিযোগপত্রটি পেশ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ৮ই জুলাই মামলার শুনানির দিন লিমনের মা আদালতে গিয়ে জানতে পারেন যে পুলিশ অভিযোগপত্র পেশ করেছে। মামলায় আসামী কিংবা আইনজীবীদের না জানিয়ে হুট করে অভিযোগপত্রটি দেয়া হয়েছে।
মামলায় অভিযোগপত্র পেশ করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান ডঃ মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, লুকোচুরি করে এক মন্দ অভিপ্রায়ে এই অভিযোগপত্র পেশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এতো সন্তর্পনে দেয়া হয়েছে যে এতে করে অভিযোগপত্রের অভিপ্রায় সম্পর্কে আমাদের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
“কোন ব্যক্তি কিংবা সংস্থার মধ্যে একটি অহমিকা তৈরি হয়েছে যে যেমন করেই হোক পঙ্গু লিমনকে দোষী বানাতে হবে, তাকে দোষী না বানিয়ে তাঁরা শান্তি পাচ্ছেন না।“
সর্বশেষ মামলায় পেশ করা অভিযোগপত্রে লিমন হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল মান্নান রসুল। চুপিসারে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তিনি তা নাকচ দেন।
তিনি বলেন, অভিযোগপত্র পেশ করার আগে আসামি কিংবা আইনজীবীকে জানানোর কোন প্রয়োজন নেই।
লিমন হোসেন আহত হওয়ার পর থেকেই তাঁর পাশে দাড়িয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। কমিশন চাইছে, তাঁর বিরুদ্ধে মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হোক।
ডঃ রহমান এ ব্যাপারে বলেন, গত মাসের ৫ তারিখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সঙ্গে এক বৈঠকে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
“আমাদের কিন্তু এক ধরনের বিশ্বাস ছিল যে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করা হবে না।“
ডঃ মিজানুর রহমান অবশ্য স্বীকার করেন, তাদের বিশ্বাস ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই মামলা প্রত্যাহারের জন্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়া হবে বলে তিনি জানান।








