উপাচার্য ইস্যুতে বাংলাদেশে ক্যাম্পাস অস্থিরতা

ছবির উৎস, focus bangla
- Author, আকবর হোসেন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে বাংলাদেশে প্রযুক্তি শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বুয়েটে অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে আজ (মঙ্গলবার) শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মন্তব্য করেছেন, বুয়েটের শিক্ষকরা সমস্যার সমাধান চান বলে তাঁর মনে হয়না।
উপাচার্য নিয়োগের ইস্যুতে আন্দোলন চলছে ঢাকার কাছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও।
এই অবস্থায় সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্বশাসন কতটা আছে তা নিয়ে অনেকেই আবার কথা বলতে শুরু করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন মনে করেন কাগজে কলমে স্বায়ত্বশাসনের কথা বলা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকার প্রভাব বজায় রাখতে চায় বলেই বিভিন্ন সময়ে সংকট ঘনীভূত হয়।
অধ্যাপক হোসেন বলেন উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য না দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য হয়। "এজন্য উপাচার্যদের নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে আস্থার সংকট তৈরি হয়"।
গত দুই সপ্তাহ ধরে বুয়েটে অচলাবস্থা চললেও এর কয়েকমাস আগে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এখন আবার সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলছে আন্দোলন।
অনির্বাচিত উপাচার্য নিয়ে ক্ষোভ
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন বর্তমানে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত উপাচার্য না থাকায় অনেক শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। এতে করে এক ধরনের বৈধতার সংকটে পড়েছেন অনেক উপাচার্য।
অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন এজন্য সরকারের ভূমিকাকেই বেশি বলে মনে করছেন। তিনি মনে করেন সরকার যদি চায় সেক্ষেত্রে উপাচার্যরা নির্বাচন দিতে বাধ্য থাকবেন।
"নির্বাচিত উপাচার্য না হলে তিনি গণতান্ত্রিক হাতে পারেন না এবং তাদের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়।"
সরকার যদিও বারবারই বলে আসছে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্বশাসিত এবং সেখানে সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারের প্রভাব খাটানোর বিষয়টিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন সবগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনভাবে কাজ করছে।
"বিগত সরকারের সময় নিয়োগ করা কোন উপাচার্যকে বর্তমান সরকার সরিয়ে দেয়নি।" তবে শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন শুধু বুয়েটের ক্ষেত্রে উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি আইন অনুযায়ী সরকারের হাতে রয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকই মনে করছেন কোন কোন ক্ষেত্রে সরকারের নিয়োগ করা উপাচার্যদের ছাত্র-শিক্ষকরা পছন্দ না করলেও তাদের টিকিয়ে রাখতে নানা তৎপরতা চালানো হয়। বর্তমানে বুয়েটের পরিস্থিতিকে সেভাবেই দেখছেন অনেকে।








