
বিএনপির ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে হরতালের ঘোষণা দেন শামসুজ্জামান দুদু
বাংলাদেশে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি সংলাপের আহ্বান জানানোর পরদিনই আবার নতুন করে হরতাল কর্মসূচি দিয়েছে।
সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে এবং নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট রোববার দেশব্যাপী সকাল সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে।
গতকালই বিএনপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্দলীয় সরকার ইস্যূতে সংলাপের আয়োজন করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছিল।
এমন অবস্থানের ব্যাপারে দলটির নেতারা বলেছেন, দাবি আদায়ে তারা বিভিন্ন কৌশল নিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, বিএনপি আসলে শক্ত অবস্থান নিয়েই এগুতে চাইছে।
এবার হরতাল ডাকার ক্ষেত্রে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর বিষয়কে মুল ইস্যূ হিসেবে তুলে ধরেছে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোট।
"সংলাপের কথা বলে সরকার যখন বিরোধীদলের উপর দমননীতি চালায়, সেটা দ্বৈতনীতি হচ্ছে কীনা,তা নিয়েও জনগণ প্রশ্ন তোলে।"
আ স ম হান্নান শাহ, বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য
হরতালের মতো কর্মসূচি নেওয়ার আগের দিনেই বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছিল। সংলাপের কথা বলার পাশাপাশি হরতাল ডাকার বিষয় নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেকে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ তাদের ভিন্ন অবস্থানকে কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলছিলেন, ‘আমরা বিরোধীদল সরকারের কাছে বিভিন্ন পন্থায় আমাদের দাবিদফা আদায়ের চেষ্টা করছি। যেমন আমাদের কোন কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে অনেকে বা জনগণের একটা অংশ মনে করেন যে, বিপরীতধর্মী কিছু হচ্ছে কীনা। ঠিক তেমনি, সংলাপের কথা বলে সরকার যখন বিরোধীদলের উপর দমননীতি চালায়, সেটা দ্বৈতনীতি হচ্ছে কীনা,তা নিয়েও জনগণ প্রশ্ন তোলে।’
"হরতাল দিয়ে বিএনপি শক্ত অবস্থানের দিকে এগুতে চাইছে বলে আমার মনে হচ্ছে।"
রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, সম্পাদক, দ্য নিউজ টুডে
সামনের মাসের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথাও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। যদিও দলটি তাদের নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিতে সরকারকে ৪৮ ঘন্টার আলটিমেটামও দিয়েছিল।
এছাড়া সপ্তাহখানেক আগে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন উপকূলে আঘাত হানার সময় বিএনপি হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে কয়েক ঘন্টার মধ্যে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এমন অবস্থানের ব্যাপারে দলটির ভিতরে অনেকেই সমন্বয়হীনতার প্রশ্ন তুলেছেন।
ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউজ টুডে পত্রিকার সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, বিএনপির কর্মসূচি নেওয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বা সমন্বয়ের অভাব থাকলেও দলটি শক্ত অবস্থানের দিকেই এগুতে চাইছে।
তিনি বলছিলেন, ’৪৮ ঘন্টার আলটিমেটাম দেওয়ার ক্ষেত্রে একটা অসামঞ্জস্য ছিল। কারণ আলমেটাম ব্যর্থ হলে, কী করা হবে সেটা বলা ছিল না। অন্যদিকে, এখন দু’পক্ষই মুখে আলোচনার কথা বলছে। সে কারণে তারা অনঢ় অবস্থানেই থাকছে। এখন হরতাল দিয়ে বিএনপি শক্ত অবস্থানের দিকে এগুতে চাইছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’
বিএনপি নেতা আ স ম হান্নান শাহ তাদের দলে সমন্বয়ের অভাব দেখছেন না। তাঁর বক্তব্য হচ্ছে, জোটের অন্যান্য শরিকদের মতামত বা সুপারিশ মূল্যায়ন করতে গিয়ে অনেক সময় তাঁদের কৌশলে পরিবর্তন আসে।
তবে তিনি মনে করেন, তাদের কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ সেভাবে হচ্ছে না।
সেজন্য তিনি অবশ্য সরকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতার বা দমননীতি চালানোর অভিযোগ করেছেন।


























