ক্রিকেটে স্পট ফিক্সিং-এর কথা অস্বীকার করলেন বাংলাদেশের সুজন

সর্বশেষ আপডেট শুক্রবার, 31 মে, 2013 15:34 GMT 21:34 বাংলাদেশ সময়

মোহাম্মদ আশরাফুল, সাকিব আল-হাসানের সাথে

বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্পট ফিক্সিংকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

দেশটির একটি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলের সাথে আইসিসি কর্মকর্তাদের কথোপকথনের সূত্র ধরে তিনজন সাবেক ক্রিকেটারের নাম প্রকাশ করা হয়েছে ।

এই তিনজনের একজন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন তার নাম প্রকাশের পর, এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

বিসিবি বলছে, তারা এখন স্পট ফিক্সিং নিয়ে আইসিসির তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে।

সম্প্রতি বিপিএল ম্যাচের ফিক্সিং তদন্ত করতে বাংলাদেশে এসেছিল আইসিসির এ্যান্টি করাপশন এন্ড সিকিউরিটি ইউনিট বা আকসুর তদন্ত দল।

"যদি আমি দোষী থাকি, তবে আমি আমার দোষের শাস্তি পাব।"

খালেদ মাহমুদ সুজন

তদন্ত করতে গিয়ে তারা কথা বলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে।

সেই বৈঠকের সূত্র ধরে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপিএলে ম্যাচ পাতানোর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কয়েকটি ক্রিকেট ম্যাচেও স্পট ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত থাকার কথা আকসুর কাছে স্বীকার করেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য বুকিদের সাথে তাকে জাতীয় দলের তিনজন সাবেক ক্রিকেটার পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বলে তিনি আকসুকে জানিয়েছেন।

এই তিনজনের মধ্যে একজন, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক সহকারী কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন এই অভিযোগ পুরোপুরিই নাকচ করে দিচ্ছেন।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু তদন্তও দাবী করছেন মি. মাহমুদ।

"আমি চাচ্ছি এটার একটা উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হোক। আর যদি আমার দোষ না থাকে, তবে আমি এই কালিমা থেকে মুক্ত হবো এবং পরবর্তী পদক্ষেপটি নিতে পারবো।" বলেন খালেদ মাহমুদ।

"আমরা যদি দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে পারি তবে বিপিএল নিয়ে এধরণের ঘটনা আর ঘটবে না"

নাজমুল হাসান

খালেদ মাহমুদ ছাড়াও প্রকাশ হয়েছে আরো দুজন সাবেক ক্রিকেটারের নাম, যাদের মধ্যে আরো একজন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক।

বোর্ড প্রধান হতাশ

তবে যাকে ঘিরে এ অভিযোগের সূত্রপাত, সেই মোহাম্মদ আশরাফুল অবশ্য এবিষয়ে কোন মন্তব্য করছেননা।

স্পট ফিক্সিংয়ের সাথে বর্তমান এবং সাবেক ক্রিকেটারদের জড়িত থাকার এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো সরাসরি কোন জবাব দিচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

তারা বলছেন, এবিষয়ে আকসুর তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য তারা এখন অপেক্ষা করছেন। আর কিছুদিনের মধ্যেই এটি তারা হাতে পাবেন বলে আশা করছেন।

এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কথা না বললেও সাংবাদিকদের কাছে তাৎক্ষনিক এক প্রতিক্রিয়ায় স্পট ফিক্সিংয়ের এসব অভিযোগ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান।

"আমরা যদি দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে পারি এবং ভবিষ্যতেও যাতে এরকম না করতে পারে এধরণের ব্যবস্থা রাখতে পারি, তবে বিপিএল নিয়ে এধরণের ঘটনা আর ঘটবে না।" বলেন বিসিবি সভাপতি।

বিপিএলে স্পট ফিক্সিংয়ের তদন্তের বিষয়ে খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথেও কথা বলেছে আকসুর তদন্ত দল।

সুজন দাবী করছেন, কয়েক বছর আগে স্পন্সর পরিচয় দিয়ে একজন বুকি জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের ফোন নম্বর জানতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেটিও আকসু জানে বলে উল্লেখ করেন খালেদ মাহমুদ সুজন।

এখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে একটি তদন্ত করার পরই তিনি পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

বিসিবি বলছে, এখনি তারা নিজস্ব কোন তদন্ত করবেন না। বরং আকসুর তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাবার পর, সে অনুযায়ী তারা বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী আদালতের মাধ্যমে ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

BBC © 2014বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻