মেয়র নির্বাচন নিয়ে শেষ মুহুর্তে নানা আশংকা

    • Author, আফরোজা নীলা
    • Role, বিবিসি, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বড় নগরীতে নির্বাচনের প্রাক্কালে বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠুভাবে হবে কীনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

শনিবার এই চার নগরীতে ভোট গ্রহণ করা হবে। চারটি শহরেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকারের নির্বাচন যদিও দলীয় ভিত্তিতে হয় না তারপরও সব বড় দলই এই নির্বাচনে তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নেমেছে।

রাজশাহীর সাংবাদিক আনোয়ার আলী জানান, সেখানকার ভোটাররা এ নির্বাচনকে বেশ গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন।

“শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গিয়ে খেয়াল করেছি বিভিন্ন জায়গায় নামাজের পরপরই লোকজন জড়ো হয়ে নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা করছিল, আলোচনা করছিল কাকে ভোট দেয়া যায়, বা কাকে ভোট দেয়া উচিত। নামাজের পর চায়ের দোকানগুলোতেও এ নিয়ে আলোচনা জমে উঠে।”

খুলনাতে যে দুজন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে তারা দুজনেই পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বাচনে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ আনছেন।

খুলনার সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী জানান, “অভিযোগটি প্রথম করেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মঞ্জু। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক এর জবাবে পাল্টা অভিযোগ করেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে।”

গৌরাঙ্গ নন্দী জানান, কোন প্রার্থীই অবশ্য এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন নি রিটার্নিং অফিসারের কাছে।

নির্বাচন কমিশন ভোটের দিনের জন্য যে নিরপত্তার ব্যবস্থা করেছে তাতে সন্তুষ্ট নন সিলেটের মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, যিনি বিএনপির সমর্থন নিয়ে ভোটে লড়ছেন।

তিনি বিশটি ভোট কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ করেছেন যে এই কেন্দ্রগুলো দখলের আশঙ্কা করছেন তারা।

সিলেটের এক সাংবাদিক আহমেদ নুর জানান, “নির্বাচন কমিশন আমাদেরকে বলেছেন তারা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং এটা কোনভাবেই সম্ভব হবেনা । তারা দাবী করছেন যে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে এবং সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তারা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন।”

বরিশালের সাংবাদিক শাহীনা আজমিন জানাচ্ছিলেন বরিশালের একজন প্রার্থী আহসান হাবিব কামালও নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

শাহীনা আজমিন জানান, “আজ দুপুরে ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল সংবাদ সম্মেলন করে দাবী তুলেছেন বরিশালে সেনা মোতায়েন করা হোক। তারা আশঙ্কা করছেন তারা সব ভোটই পাবেন কিন্তু তাদের ভোট দখল হয়ে যেতে পারে।”

বিএনপি বলছে, সাধারণ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনই প্রমাণ করবে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কতটা নিরপেক্ষ। তাদের ভাষায় নির্বাচন কমিশনের জন্য এই নির্বাচন অগ্নিপরীক্ষা।