ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সংস্কারপন্থী প্রার্থী এগিয়ে

ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে মধ্যপন্থী রক্ষণশীল প্রার্থী হাসান রৌহানি এগিয়ে আছেন।
তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে ৫০ শতাংশের কিছু বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন।
সরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে এ পর্যন্ত দুই কোটি ৩০ লক্ষ ভোট গোণা হয়েছে যার মধ্যে মিঃ রৌহানি শতকরা ৫০ ভাগের কিছু বেশি ভোট পেয়েছেন। চূড়ান্ত ফলাফল আজ (শনিবার) আরো পরে জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংস্কারপন্থীদের সমর্থিত প্রার্থী মিঃ রৌহানি যদি এই হারে তাঁর এগিয়ে থাকা বজায় রাখতে পারেন, তাহলে দ্বিতীয় রাউন্ডে না গিয়েই তিনি প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর বিজয় নিশ্চিত করতে পারবেন বলে সংবাদদাতারা বলছেন ।
তেহরানের মেয়র মোহাম্মদ বাখর কালিবাফ তার থেকে অনেক ব্যবধানে এখন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।
বেশ কয়েক ঘন্টা বিলম্বের পর ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণলায় প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করতে শুরু করেছে।
চারবছর আগে অবশ্য প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদীনেজাদের জয়ের খবর দ্রুত প্রকাশ করা হয়, যা সেসময় ব্যাপক বিক্ষোভের কারণ হয়েছিল।
সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার পর মিঃ আহমেদীনেহাজ ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের গবেষক ফারায সানেই বিবিসিকে বলেছেন এ পর্যন্ত ফলাফল যা জানা যাচ্ছে তা সবাইকে বিস্মিত করেছে। ''ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ যাবৎ প্রকাশিত ফলাফল ইরান বিষয়ক বহু বিশ্লেষক, সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও বিস্মিত করেছে। হাসান রৌহানি বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ বাখর কালিবাফের থেকে বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।''
মিঃ সানেই বলছেন মিঃ রৌহানিকে একজন মধ্যপন্থী হিসাবে দেখা হয়।

''মিঃ রৌহানির পেছনে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির সমর্থন রয়েছে, যিনি একজন সংস্কারপন্থী । এছাড়াও তাকে সমর্থন দিচ্ছেন আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট মিঃ রাফসানজানি যিনি একজন মধ্যপন্থী।''
সংবাদদাতারা বলছেন দেশটির সবথেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের অনুগত চরম রক্ষণশীল ৫জন প্রার্থীর বিপরীতে মধ্যপন্থী ও ও বাস্তববাদী রক্ষণশীল প্রার্থী মিঃ রৌহানিকে দেখা হচ্ছে কার্যত একজন বিরোধী প্রার্থী হিসাবে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ৬৪ বছরের ধর্মীয় নেতা মিঃ রৌহানি কট্টরপন্থীদের সমালোচনা করে বলেছেন তারা পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি যেধরনের নীতি অনুসরণ করছেন তা ইরানকে একটা চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
মিঃ রৌহানি পশ্চিমের দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের আবার আলোচনার পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ।








