ব্রাজিলে অসন্তোষের মুখে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি

ব্রাজিল জুড়ে এক সপ্তাহের ওপর চলা সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ অবসানের চেষ্টায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ডিল্মা রুসেফ বিক্ষোভকারীদের দাবির উত্তরে দুর্নীতি দমন এবং পরিবহন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেছেন বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগের জায়গাগুলো তিনি খতিয়ে দেখবেন।
গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি একটি নতুন পরিকল্পনার খসড়া তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার ভাষণে বলেন তেলসম্পদ থেকে প্রাপ্ত সব রাজস্ব শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হবে।
প্রেসিডেন্ট রুসেফ আরো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত করতে বিদেশ থেকে তিনি কয়েক হাজার চিকিৎসক ব্রাজিলে নিয়ে আসবেন।
আগামী বছর ব্রাজিলে যে ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডিল্মা রুসেফ বলেছেন জনগণের জন্য সেবা ব্যবস্থায় কাটছাঁট করে তার অর্থ সংস্থান করা হবে না।
তিনি বলেছেন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি রাজি আছেন, কিন্তু সহিংসতা সহ্য করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ।
এর আগে প্রতিবাদ বিক্ষোভ নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকেন।

এই বিক্ষোভ শুরু হয় সাও পাওলোতে পরিবহনের ভাড়াবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের মাধ্যমে।
কিন্তু দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে এবং দুর্নীতি ও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে জনসাধারণ রাস্তায় নামে ।
বৃহস্পতিবার রাতে দশ লাখের ওপর মানুষ রাস্তায় বিক্ষোভ করে এবং বিভিন্ন শহরে সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যেসব ঘটনায় দিুজনের মৃত্যু হয়, আহত হয় বেশ কিছু মানুষ।
শুক্রবারেও রিও ডি জেনিওরোতে হাজার খানেক মানুষ বিক্ষোভ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে কিছু দোকানে লুটপাট চলে এবং ফাঁকা একটি শিল্পকেন্দ্র ভবনের ওপর কিছু লোক চড়াও হয়।
পুলিশের ওপর ইঁটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছে।
সাও পাওলোসহ অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।
প্রেসিডেন্ট ডিল্মা রুসেফ টিভি ও বেতারে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছেন বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগের কথা তিনি শুনেছেন।

তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন 'সরকারের জন্য তাদের মতামত, শক্তি ও সামর্থ্যের প্রয়োজন'।
সাও পাওলো থেকে বিবিসির সংবাদদাতা গ্যারি ডাফি বলছেন ব্রাজিলের নেতৃপদে আসীন হবার পর তাঁর সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং এই ভাষণে ছিল আপোসের সুর।
''আমি চাই প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরো স্বচ্ছতা এবং অনিয়ম বিরোধী মনোভাব।''
আগামী বছর ব্রাজিলে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাষণে বলেছেন ব্রাজিল সবসময়েই আন্তজার্তিক ইভেন্টকে স্বাগত জানিয়েছে। তিনি বলেছেন তার দেশ দারুণ একটা অনুষ্ঠান বিশ্ববাসীকে উপহার দেবে।
এই বিশ্বকাপ আয়োজনের অর্থ সংস্থান করবে খেলাধূলার জগতের সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলো।
''আমি কখনই শিক্ষা বা স্বাস্থ্যখাতের ক্ষতি করে এই আয়োজনের জন্য করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের পক্ষপাতী নই।'' বলেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ডিল্মা রুসেফ।








