দক্ষিণ সুদানে সংঘর্ষে ব্যাপক হতাহতের আশংকা

131224192721_south_sudan_refugees_304x171_reuters.jpg
Published

দক্ষিণ সুদানে বিদ্রোহী এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে সপ্তাহ-খানেক ধরে চলা সংঘর্ষে ব্যাপক হতাহতের আশংকা করছে জাতিসংঘ।

মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজার হবে বলে জাতিসংঘ মনে করছে।

সেখানে ইতিমধ্যেই তিনটি গণকবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার নাভি পিল্লাই।

ওদিকে গতরাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এক ভোটে সেখানে পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও সাড়ে পাঁচ হাজার শান্তি রক্ষী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

রাজধানী জুবা, গুরুত্বপূর্ণ শহর বেনতিউ ও বর এলাকাগুলোতে মূল সংঘর্ষ চলছে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তার বলছেন সেখানে হাসপাতালগুলোতে আহতদের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে।

সপ্তাহ খানেক ধরে চলা সংঘর্ষে কমপক্ষে আশি হাজারের মতো মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।

4190548_refugees_from_south_sudan_304x171_reuters.jpg

তাদের অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন জাতিসংঘের কার্যালয়ে।

জাতিসংঘ বলছে জাতিগত বিদ্বেষই এই সংঘর্ষের কারণ।

আক্রমণের ধরন তাদের তেমনটি মনে হয়েছে। সংঘর্ষের সূত্রপাত গত সপ্তাহে।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিক মাসার, প্রেসিডেন্ট সালভা কিরের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেন।

নুয়ের এবং দিনকা সম্প্রদায়ের এই দুই নেতার বাহিনীর সংঘর্ষের পেছনে জাতিগত বিভেদই হয়ত কাজ করছে বলে মনে করছেন সংবাদদাতারা।

সুদানে গৃহযুদ্ধের ইতিহাস নতুন নয়। ২২ বছর ধরে চলা সংঘর্ষে ১০ লাখের মতো মানুষ সেখানে প্রাণ হারিয়েছে।

২০১১ সালে সুদান থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে দক্ষিণ সুদান।

423_south_sudan_slpa_army_304x171_reuters_nocredit.jpg

কিন্তু সেনা অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক সংকট আর জাতিগত বিভেদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ সেখানে রয়েই গেছে।

যা গত কদিনে চরম অবস্থায় পৌঁছেছে বলে মনে করছে জাতিসংঘ।

গত রাতে নিরাপত্তা পরিষদের এক ভোটে সেখানে শান্তি রক্ষীর সংখ্যা ৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ১২ হাজার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ওদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব ব্যান কি মুন গতরাতে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে টেলিফোন করে শান্তিরক্ষী মিশনে আরও এক ব্যাটালিয়ন সৈন্য চেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী সৈন্য পাঠানোর ব্যাপারে মত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

কি কারণে জাতিসংঘ এই সৈন্য চেয়েছে, সেটা স্পষ্ট না হলেও মিস্টার সোবহান উল্লেখ করছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বিচারে সাউথ সুদানে পাঠানোর জন্যই এই অতিরিক্ত সৈন্য চাওয়া হয়ে থাকতে পারে।