ঢাকায় ১৮দলকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি

ঢাকায় বিএনপি অফিস
ছবির ক্যাপশান, ঢাকায় বিএনপি অফিস
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকায় প্রধান বিরোধীদল বিএনপির ডাকা রোববারের অবস্থান ও সমাবেশ কর্মসূচির অনুমতি দেয় নি পুলিশ ।

৫ই জানুয়ারির নির্বাচন 'প্রতিহত করার' আহ্বান জানিয়ে ঢাকা অভিমুখে পদযাত্রা এবং সমাবেশের এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন প্রধান বিরোধীদল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এই সমাবেশের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদনও করা হয়েছিল।

তবে আজ ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, শহরের লোকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয় নি।

অনুমতি না পাবার খবরের পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি ভিডিও বার্তা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এতে এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় খালেদা জিয়া 'প্রতিকুলতা-প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে ২৯শে ডিসেম্বরের গণতন্ত্র রক্ষার সমাবেশ কর্মসূচি সফল করার' আহ্বান জনান।

কড়া পাহারায় থাকা বাসভবন থেকে দেয়া ওই বার্তায় খালেদা জিয়া সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, "যদি আমি আপনাদের পাশে থাকতে নাও পারি তাহলেও আপনারা এই কর্মসূচি এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।"

এই ঢাকা-অভিমুখী কর্মসূচিতে যোগ দেবার জন্য জেলা উপজেলা থেকে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন, এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে ।

তবে ঢাকায় আসার চেষ্টার সময় কর্মী-সমর্থকরা নানা রকম বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, এমন অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা।

dhaka_police_search
ছবির ক্যাপশান, ঢাকার রাস্তায় পুলিশের তল্লাশি

এরই পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা ও তার আশেপাশের এলাকায় গত দুদিনে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতারের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে।

পুলিশ , র‍্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী এই অভিযান চালায়। বৃহস্পতিবার মাঝরাত থেকে মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু লোককে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সেনা সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে বায়তুল মোকাররমের সামনে রাস্তায় লোকজনকে থামিয়ে তল্লাশিও করেছে পুলিশ।

বিরোধীদল বিএনপির নেতৃবৃন্দ এ অভিযানের সমালোচনা করে বলেছেন, আগামি রোববার ঢাকা অভিমুখে তাদের অভিযাত্রার কর্মসূচি ভণ্ডুল করতেই বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের এই অভিযান শুরু করেছে সরকার।

তবে পুলিশ এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, নির্বাচনের আগে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার জন্যই এ অভিযান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেছেন, ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রার কর্মসূচি দেওয়ার পর থেকেই বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় শুরু হয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা এবং মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, কোন জোটের কর্মসূচি চিন্তা করে অভিযান চালানো হচ্ছে না।

উত্তরের একটি বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে বিএনপির একজন নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, রোববারের তাদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকার কঠোর অবস্থান নিতে পারে, সে আশংকা তারা করছেন।

আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে দেখা করে বিরোধী জোটের কর্মসূচি নিয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে।

তাদের বক্তব্য হচ্ছে, নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ঢাকায় সমাবেশে করা জড়ো হওয়া বৈধ নয়। নির্বাচন কমিশন অবশ্য বলেছে, বিরোধীজোটের কর্মসূচি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে না।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, একতরফা নির্বাচনে তারা অংশ নিচ্ছেন না। ফলে তাদের অবস্থান বা বক্তব্য তুলে ধরতে সমাবেশ করার বা কর্মসূচি পালনের অধিকার তাদের রয়েছে।