অবরোধে অচল বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা

- Author, আকবর হোসেন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
বাংলাদেশে বিরোধী জোটের ডাকে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে টানা অবরোধ কর্মসূচি চলছে।৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবিতে বিরোধী দলগুলো এই কর্মসূচি দেয়। তাদের এই অবরোধের কি প্রভাব পড়ছে তার খোঁজ নিয়েছেন বিবিসির আকবর হোসেন:
বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়েছিলাম ঢাকার অন্যতম বড় বাস টার্মিনাল গাবতলীতে।
দেশের উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাস এখান থেকেই ছেড়ে যায়। পুরো গাবতলী টার্মিনালে অসংখ্য টিকিট কাউন্টার রয়েছে। অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরির পর অল্প কজন যাত্রীর সাথে দেখা হলো। তাদের একজন রাবেয়া খাতুন। তিনি খুলনায় যেতে যান। কিন্তু গাড়ি নেই।
“পুরো টার্মিনালটাই বন্ধ। গাড়ি ছাড়ছেনা আর আমারও খুব জরুরী দরকার। দুইটা গাড়ি পেয়েছি তাও রাত্রে যাবে। এতক্ষণ এখানে থাকা সম্ভব”, হতাশার কথা বলছিলেন রাবেয়া খাতুন।
গাবতলীতে বেশিরভাগ টিকিট কাউন্টারই বন্ধ। যেগুলো খোলা দেখা গেলো সেখানে পরিবহণ শ্রমিকরা বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। তাদের কোন ব্যস্ততা নেই। একজন টিকিট বিক্রেতা হরেন্দ্রনাথ জানালেন টার্মিনাল যে হাতে গোনা কয়েকটি গাড়ি ছাড়ে, তাও আবার রাত দশটার পর।
টিকিট বিক্রেতা হরেন্দ্রনাথ বলছিলেন , “ অবরোধ না থাকলে প্রতিদিন এখান থেকে তিনশোর মতো গাড়ি ছাড়ে। আর এখন গাড়ি ছাড়ে সাত-আটটা। “
গাবতলী থেকে গেলাম আরেকটি ব্যস্ত বাস টার্মিনাল মহাখালীতে। সেখান দেখলাম সাত-আটটি বাস টার্মিনাল ছেড়ে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু যাত্রী কম থাকায় তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ , জামালপুর , নেত্রকোনা , শেরপুর ও কিশোরগঞ্জে বাস ছেড়ে যায়। একটি পরিবহন কোম্পানির একজন কর্মচারী জানালেন পুলিশের পাহারায় একবারে আট-দশটি বাস ছাড়ে। পুলিশের পাহারায় সে বাসগুলো ময়মনসিংহ নিয়ে যাওয়া হয় আবার সেখান থেকে ঢাকায় আনা হয়। এভাবে দিনে দুই-তিনবার মহাখালী টার্মিনাল থেকে বাস ছেড়ে যায় বলে জানালেন পরিবহন কোম্পানির কর্মচারীরা।
অবরোধের সময় গত বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকা শহরের ভেতরে যানবাহন চলাচলের হার বেড়েছে। তবে প্রাইভেট কারের সংখ্যা খুবই কম। সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং পাবলিক বাস চলাচলের হার বেড়েছে। মানুষজন তাদের কাজ সেরে নিচ্ছেন। অফিসগুলোতে উপস্থিতিও রয়েছে স্বাভাবিক। তবে কিছু বিদেশী সংস্থার অফিস বন্ধ রয়েছে অথবা তারা বাসায় বসেই কাজ করছেন।
একই অবস্থা দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। সেখানকার সাংবাদিক রফিকুল বাহার জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শহরের ভেতরে যানবাহন চলাচল বেড়েছে। তবে চট্টগ্রামের সাথে ঢাকার সড়ক পথে যাত্রী পরিবহন বন্ধ আছে। ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাত্রী আসা – যাওয়া করছে ট্রেনে নতুবা আকাশ পথে। তবে সাংবাদিক রফিকুল বাহার জানিয়েছেন পণ্য পরিবহনের হার বেড়েছে। পুলিশের সহায়তায় ঢাকা –চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য জায়গায় পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক রফিকুল বাহার।
রাজশাহীতেও অবরোধের নেতিবাচক প্রভাব অব্যাহত আছে। ঢাকার সাথে কিংবা রাজশাহীর আঞ্চলিক সড়কে বড় বাসে যাত্রী পরিবহন নেই বললেই। তবে আজ সীমিত আকারে পণ্যবাহী যান চলাচল করেছে। রাজশাহীর সাংবাদিক আনোয়ার আলী জানিয়েছেন অবরোধের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে জনজীবনে। রাজশাহী থেকে ট্রেনে করে অনেকে ঢাকায় যাতায়াত করছেন।
এদিকে সরকারের দিক থেকে পুলিশের পাহারায় যানবাহন চলাচল করার আশ্বাস দেয়া হলেও পরিবহণ শ্রমিকরা জানিয়েছেন মালিকরা তাতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না। সীমিত আকারে পণ্য পরিবহন সম্ভব হলেও অবরোধের সময় মহাসড়কে যাত্রী পরিবহন করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন পরিবহন শ্রমিকরা।








