সংবর্ধনা দিতে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নেয়া যাবে না

ছবির উৎস, bbc bangla
- Author, রাকিব হাসনাত সুমন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
বাংলাদেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে বিশিষ্ট ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধিদের সংবর্ধনা দিতে শিক্ষার্থীদের আর রাস্তায় দাঁড় করানো যাবে না।
মন্ত্রণালয়ের আজ এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারী করেছে।
একই ধরনের আরেকটি পরিপত্র সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও।
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন এ নির্দেশ কেউ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সম্প্রতি একজন মন্ত্রীর সংবর্ধনায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে যোগ দেয়া একজন শিক্ষক বলেছেন তারা মন্ত্রীর সংবর্ধনায় যোগ দিতে স্থানীয়ভাবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে চিঠি পেয়েছিলেন।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্ত্রী-এমপিদের স্বাগত জানাতে শিক্ষার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখার কয়েকটি ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে।
শুক্রবার রাজশাহীর বাঘায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
এ সংবর্ধনার অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে শতাধিক শিক্ষার্থীকে কয়েক ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
যদিও বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী মোক্তার দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী স্কুল কমিটির সভাপতি তাই সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ওই সভায় যোগ দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “উনি আমাদের সভাপতি। মাঠ সংলগ্ন জায়গায় আসছেন। শিক্ষকরা যারা ছিলাম গিয়েছি। শিক্ষার্থীরা যারা ছুটির দিনে পেরেছেন এমন অনেকে এসেছেন”।
খোদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীকে তার জেলায় সংবর্ধনাতেও স্কুলের শিক্ষার্থীদের রাখার অভিযোগ উঠেছে।
তবে তার নির্বাচনী এলাকায় তাকে সংবর্ধনা দিতে ২০৫টি স্কুলে ছুটি ঘোষণা করেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছে।
কোথাও কোথাও স্কুল কর্তৃপক্ষ আবার কোথাও কোথাও সরকারি দলের স্থানীয় নেতাদের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমপি-মন্ত্রীদের সংবর্ধনা সভায় যোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা।
যেমনটি বলছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর জেলার এলাকার একজন শিক্ষক যিনি তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মন্ত্রীর সংবর্ধনা সভায় যোগ দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “মন্ত্রীর প্রোগ্রাম ছিল। আমাদের চিঠি দেয়া হয়েছিলো”। কারা চিঠি দিয়েছিলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আওয়াম লীগ থেকে উপজেলার”। চিঠিতে কি ছিল প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দাওয়াত দিয়েছে। বলেছে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আসবেন”।
৫ই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর নতুন সরকারের মন্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণের পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরে সংবর্ধিত হয়েছেন।
তবে শিক্ষকদের অনেকে জানিয়েছেন যেসব স্কুলের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি স্থানীয় এমপি বা মন্ত্রী নিজেই সেসব স্কুলের শিক্ষকদের এ ধরনের সংবর্ধনায় সভায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকার সুযোগ ছিলনা।
তবে স্বাগত জানানোর নামে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আজ পরিপত্র জারী করে সংবর্ধনার নামে শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে এ নির্দেশ অমান্য করলে প্রধান শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পরিপত্রে কি বলা হয়েছে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধি কোন এলাকায় গেলে ক্লাস বন্ধ করে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা যাবেনা”।
মনিটরিং কিভাবে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা প্রতিটি স্কুলের দিকে লক্ষ্য রাখবো। যদি কেউ এমন করেন তাহলে ব্যবস্থা নিবো”।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এজন্য জনপ্রতিনিধি সহ সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে পরিপত্রে”।
শিক্ষামন্ত্রী অবশ্য বলেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা বা কর্তৃপক্ষ চাইলে কোন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিজ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংবর্ধনা দিতে পারবেন।
তাছাড়া রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী কোন এলাকা সফরে গেলে সেখানে শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে যেতে পারবে, কারণ তিনি মনে করেন রাষ্ট্রের প্রধান দু ব্যক্তিত্বকে দেখার একটি আগ্রহ সবার মধ্যেই থাকে।








