সহিংসতার জেরে বন্ধ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আহত ছাত্রী।
ছবির ক্যাপশান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আহত ছাত্রী।
    • Author, আহরার হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও সরকার সমর্থক সংগঠন ছাত্রলীগের হামলায় অন্তত ১০০ জন আহত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি সোমবার সকাল আটটার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্স চালু এবং বর্ধিত ফি বাতিলসহ নানা দাবিতে বেশ কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছিলেন সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা।

তারা অভিযোগ করছেন এরই ধারাবাহিকতায় রোববার আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের উপর চড়াও হয় পুলিশ এবং ছাত্রলীগ কর্মীরা।

ছাত্রলীগ নেতারা অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

এই সহিংসতায় অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩০জনের মতো গুলিবিদ্ধ বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

ইন্টারনেটে পোস্ট করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, সামনের দিকে লক্ষ্য স্থির করে রিভলবার থেকে গুলি করছে কয়েকজন যুবক।

একটু দূরে সোয়েটশার্ট পড়া আরেক যুবক পিস্তল লোড করছে এবং পরক্ষণেই সামনের দিকে গুলি করতে করতে ছুটে যাচ্ছে। ছুরি হাতেও এক যুবককে দেখা যায় ভিডিওতে।

অস্ত্রহাতে হামলাকারীদের একজন
ছবির ক্যাপশান, অস্ত্রহাতে হামলাকারীদের একজন

এর সবই ঘটছিল গণমাধ্যমকর্মী আর তাদের ক্যামেরার সামনেই। ওই ভিডিওর পরের দৃশ্যেই দেখা যায় পুলিশের এক সদস্য অনতিদূরে দাঁড়িয়ে থাকা একদল নিরস্ত্র ছাত্রকে লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রোববার দিনভরই ঘটেছে এরকম ঘটনা। জানা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্স চালু আর বর্ধিত ফি বাতিলসহ নানা দাবিতে বেশ কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছে সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশ এবং ছাত্রলীগ কর্মীরা উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীদের একজন এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আলমগীর হোসেন।

‘আজ সকালে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট ছিল। ক্লাস পরীক্ষা চলবে না। সকাল সাতটায় আমরা যথারীতি ভবনে তালা দিয়ে ধর্মঘট শুরু করি। এ সময় পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের বাধা দেয়। এ পর্যায়ে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করি। মিছিল শেষে আমরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমাবেশ করি, এ সময় আমাদের সমাবেশে ককটেল চার্জ করে ছাত্রলীগ। এর নেতৃত্বে ছিল ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি।’

তবে ছাত্রলীগ বলছে, তাদের কোনও নেতাকর্মী সেখানে হামলা চালায় নি। সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, তারা নিজেরাও সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের ওই আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কয়েকটা দাবি মেনে নিলে রোববার তারা আনন্দ মিছিল আয়োজন করে এবং এরই কোনও এক পর্যায়ে -- মি. রহমানের ভাষায় -- সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে থাকা ইসলামী ছাত্রশিবির কর্মীরা বোমা এবং অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

রবার বুলেটে আহত এক ছাত্র
ছবির ক্যাপশান, রবার বুলেটে আহত এক ছাত্র

‘সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি যাতে আদায় না হয় এবং এই আন্দোলনকে যাতে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা যায় এজন্য তারা তাদের উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা। ছাত্রলীগ কোনও হামলা চালায়নি। আমরা শান্তিপূর্ণ আনন্দ মিছিল করছিলাম।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ ক'জন ছাত্র-ছাত্রী -- যারা এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন -- নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তারা সবাই বলেন, পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত, ইংরেজী দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক এম এ সাঈদ শুভও একই কথাই বলছিলেন।

হামলার ঘটনায় একজন সাংবাদিকসহ আহতরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।