চট্টগ্রামে বাংলাদেশ প্রমাণ করতে চায় টেস্ট খেলার যোগ্যতা

ছবির উৎস, focusbangla
- Author, আকবর হোসেন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
প্রথম টেষ্টে বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের পর চট্টগ্রামে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে ও শ্রীলংকার মধ্যে দ্বিতীয় ক্রিকেট টেষ্ট।
বাংলাদেশ এই সিরিজটি এমন এক সময়ে খেলছে, যখন বিশ্ব ক্রিকেটের শক্তিধর তিনটি দেশ টেষ্ট ক্রিকেটে দুটি স্তর তৈরিতে উঠে পড়ে লেগেছিল। এটি আপাতত কার্যকরি না হলেও বাংলাদেশের মত আরো দ একটি দেশ টেস্ট ক্রিকেট খেলার যোগ্য কিনা তা নিয়ে বিতর্ক হয়ত থামবে না।
আর সে কারণে, ঢাকায় চরম ব্যর্থতার পর যোগ্যতা প্রমাণে চট্টগ্রামে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশ, সন্দেহ নেই।
টেস্ট ক্রিকেট অঙ্গনে প্রায় ১৪ বছর ধরে বাংলাদেশের পদচারণা। কিন্তু সাফল্য খুবই নগণ্য। অনেক সময় প্রতিপক্ষের কাছে একেবারে নাস্তানাবুদ হওয়ার বিষয়টি দর্শকদের অনেক কষ্টও দেয়।
যেমনটা হলো সর্বশেষ ঢাকায় শ্রীলংকার সাথে প্রথম টেস্টে। এ খেলার আলাদা একটি গুরুত্বও ছিল। কারণ ঠিক যে সময়ে আইসিসিতে ভারত-ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রস্তাব আসতে যাচ্ছিল সেটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট হুমকীর মুখে পড়তে পারতো।
ক্রিকেট ভাষ্যকার শামীম আশরাফ চৌধুরী বলছিলেন, বাংলাদেশ দল মাঠে ভালো করতে না পারলে এটি নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠতে পারে।
মি: চৌধুরী বলেন, "দূর্ভাগ্যবশত, টেষ্ট ক্রিকেট খেলতে যে টেম্পরামেন্টের প্রয়োজন এটা এখন পর্যন্ত রপ্ত করতে পারেনি আমাদের খেলোয়াড়রা।তাদের শোধরাতে হবে। টেষ্ট ম্যাচ বল ছাড়ার খেলা, সবটা কিন্তু বল মারার খেলা না।" তবে মি: চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে দলের খেলোয়াড়দের সামর্থ্য আছে কিন্তু তারা সেটিকে কাজে লাগাতে পারছেন না।

ছবির উৎস, AP
বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা ঘরোয়া ভাবে যত বেশি তিন-চারদিনের ম্যাচ খেলবে তারা তত বেশি উন্নতি করতে পারবে বলে মনে করেন মি: চৌধুরী।
অনেকে মনে করেন ২০০০ সালে বাংলাদেশকে যখন টেস্ট স্ট্যাটাস দেয়া হয় তখন মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে ক্রিকেট কূটনীতিতে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তখন টেস্ট স্ট্যাসাস পাওয়া অনেকের কাছেই খানিকটা অপ্রত্যাশিত ছিল।
কিন্তু সময় গড়িয়ে এখন প্রায় ১৪ বছর হয়েছে। অনেকে বলেন ক্রিকেটে শক্তিধর বহু দেশেরও উন্নতি করতে অনেক সময় লেগেছে। কিন্তু অতীত উদাহরণ যাই হোক না কেন বাংলাদেশ দলকে যে এখন প্রমাণ করতে হবে সে কথা মানছে ক্রিকেট বোর্ডও। বোর্ডের মুখপাত্র জালাল ইউনূস বলছেন, উন্নতি হয়েছে তবে আরও উন্নতি করতে না পারলে প্রশ্ন উঠতে পারে।
মি: ইউনুস বলেন, প্রথম পাঁচ-ছয় বছরে আমাদের তিন দিনে ইনিংস পরাজয় হতো। এরপর আমরা পাঁচ দিন পর্যন্ত খেলতে পারছি। গত দুই বছরে আমরা কয়েকটি জয়লাভ করেছি এবং ড্র করেছি। তার মানে আমাদের উন্নতির ধারা আছে।"
তিনি বলেন, এখন জেতার সময় এসেছে এবং আমাদের প্রমাণ করতে হবে আমরা টেষ্ট খেলতে পারি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, টেস্ট ভালো করতে হলে ভালো উইকেট যেমন তৈরী করতে হবে তেমনি তিন-চার দিনের ম্যাচ বেশি খেলতে হবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান খালেদ মাহমুদ সুজন বলছিলেন, কিছু পদক্ষেপ তারা নিয়েছেন। তবে তার ফলাফল দৃশ্যমান হতে খানিকটা সময় লাগবে।
মি: সুজন বলেন এখন ভালো উইকেট যেমন তৈরী হচ্ছে তেমনি ঘরোয়াভাবে তিন-চারদিনের ম্যাচও বেড়েছে।
শ্রীলংকার সাথে প্রথম ম্যাচে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হবার পর খেলোয়াড়রা যে খানিকটা বিব্রত সেটি ম্যাচ পরবর্তী তাদের কথাতেই প্রকাশ পেয়েছে। ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতে আরও মাঠে দক্ষতা দেখানোর আশা করছেন ক্রিকেটাররা।








