নেতাকর্মীদের হতাশা কাটাতে উপজেলা নির্বাচনকে গুরুত্ব

মাঠপর্যায়ে মনোবল চাঙ্গা করতে উপজেলা নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি
ছবির ক্যাপশান, মাঠপর্যায়ে মনোবল চাঙ্গা করতে উপজেলা নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশে অন্যতম একটি প্রধান দল বিএনপির নেতারা বলেছেন, দলটির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের হতাশা কাটিয়ে আরও সক্রিয় করতে এখন উপজেলা নির্বাচনকে সর্ব্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ের নেতাদের অনেকেই বলেছেন, তাদের চূড়ান্ত আন্দোলনের মুখেও ৫ই জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে একধরনের হতাশা দেখা দিয়েছে।

সেই প্রেক্ষাপটে বিএনপির তৃণমূল থেকেই উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার দাবি উঠেছিল। স্থানীয় সরকার কাঠামোর এই নির্বাচন দলীয়ভাবে না হলেও বিএনপি একক প্রার্থী সমর্থন দেওয়াসহ সরাসরি তৎপরতা চালাচ্ছে।

আরেকটি প্রধানদল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও উপজেলা নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নেমেছে।

বিএনপি নেত্রী খালদা জিয়া এবং দলটির শীর্ষ পর্যায়ের অন্য নেতারা অবশ্য ৫ই জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন বর্জনের তাদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে দাবি করে আসছেন।

কিন্তু এখন বিএনপিতে ভিন্ন মূল্যায়নও আসছে এবং সে কারণে দলটি উপজেলা নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

উত্তরের একটি বিভাগ রাজশাহীতে বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে। সেখানে বিএনপির একজন নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করার আন্দোলনের মুখেও সেই নির্বাচন হয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এবং সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই বিএনপি এখন উপজেলা নির্বাচনে সরাসরি মাঠে নেমেছে।

“আমরা এর আগে সংসদ নির্বাচন করলাম না। কিন্তু আওয়ামী লীগ নির্বাচন করলো। এখন আমাদের মনে হচ্ছে, আমাদের কিছুটা ভুলই হয়েছে । এর ফলে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এই হতাশা কাটিয়ে ওঠার জন্য এবং কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য উপজেলা নির্বাচন আমরা করতে চাচ্ছি। এবং ভোট করলে দেখা যায় , কর্মীরা চাঙ্গা হয়। সে জন্য দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে উপজেলা নির্বাচন করতে হবে,” আরও বলছিলেন আলাউদ্দিন আহমেদ।

রাজশাহী বিএনপির এই নেতা যেমনটা বলছিলেন যে, ৫ই জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিএনপির কঠোর অবস্থান নেওয়ার বিষয়টা ভুল ছিল বলে তারা মাঠপর্যায়ের অনেকেই মনে করছেন।

৫ই জানুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় হতাশ স্থানীয় নেতাকর্মীরা
ছবির ক্যাপশান, ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় হতাশ স্থানীয় নেতাকর্মীরা

সে কারণে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আর কোন ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।

উত্তরের আরেকটি জেলা বগুড়াতেও বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান খুব ভাল।

সেই বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ মিল্টন বলেছেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে তাদের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তারা মাঠপর্যায়ে থেকেই উপজেলা নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। মাঠপর্যায়ের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিএনপি দলগতভাবে গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নেমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

দক্ষিণ-পশ্চিমের খুলনা থেকে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু মনে করেন, মাঠ পর্যায়ে হতাশা কাটানোর বিষয় যেমন রয়েছে, তেমনি একইসাথে বিএনপি গ্রাম পর্যায়ে সংগঠন আরও শক্তিশালী করার জন্য ভিত্তি হিসেবে দেখতে চাইছে উপজেলা নির্বাচনকে।

“বিভিন্ন জরিপে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়টি উঠে আসছিল। কিন্তু বিএনপি এখনও বিরোধীদলে রয়েছে। ফলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা আছে। এছাড়া এ মূহুর্তে যেহেতু আন্দোলনের কর্মসূচি নেই , সেহেতু আমাদের নেতাকর্মীরা উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। এতে সংগঠন শক্তিশালী হবে বলে আমরা মনে করছি।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অবস্থানের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাচনে এবার ভূমিকা রাখছেন।

“স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নিলে, সেই দল তো স্থানীয়ভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। এ বিষয়টাও আমরা বিবেচনায় নিয়েছি, ” বলেন মিঃ আলমগীর।

দলীয়ভাবে এই নির্বাচন না হলেও বিএনপি প্রতিটি উপজেলায় একক প্রার্থী সমর্থনের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

তবে প্রথম পর্যায়ে যে ৯৮ টি উপজেলায় নির্বাচন হবে, তার ৪০টির বেশি উপজেলায় বিএনপির একাধিক নেতা কর্মী প্রার্থী রয়েছেন।