বাংলাদেশে জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ায় জড়িতরা চিহ্ণিত

ছবির উৎস, focusbangla
- Author, কাদির কল্লোল
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
বাংলাদেশে সাজাপ্রাপ্ত তিনজন জঙ্গিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তবে তিনি জড়িতদের নাম প্রকাশ করেননি।
গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের তিনজিন নেতাকে ছিনিয়ে নিয়েছিলো বন্দুকধারীরা।
এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি আজ সোমবার তাদের প্রতিবেদন পেশ করেছে।
ছিনিয়ে নেওয়া ঐ জঙ্গিদের দু'জন এখনও পলাতক রয়েছে। তবে পুলিশ বলেছে, তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একজন ঘটনার দিনই পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর, পুলিশ বলছে, বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ত তিনজন জঙ্গিকে ফিল্মী কায়দায় ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি তদন্ত করেছে । সেই তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন ইতিমধ্যেই পেশ করেছে ।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, তদন্ত প্রতিবদেনে ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করা গেছে।
“জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার এই ঘটনা কিভাবে সংঘঠিত হয়েছিল, কারা এরসাথে জড়িত ছিল, এসব সার্বিক বিষয়ই তদন্ত করা হয়েছে। কী গাফিলতি ছিল, সেটা এই মূহুর্তে বলতে পারবো না। তবে কোন গাফিলতি তো ছিল, তা না হলে ঘটনাটি ঘটলো কীভাবে?” বলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির নেতাদের প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে নেওয়ার সময় নিরাপত্তা পর্যাপ্ত ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে, যদিও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তদন্ত প্রতিবদনে সে সম্পর্কে কিছু বলেননি। কিন্তু তার বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, কোন গাফিলতি ছিল এবং সে কারণেই ঘটনাটি ঘটতে পেরেছে।
তিনি বলছিলেন, “আসামীদের কারাগারের বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রে ৪০/৫০ বছরের একটা চালু প্র্যাকটিস আছে। এধরনের জঙ্গিদের বাইরে নেওয়ার ব্যাপারে এর কোন ব্যত্যয় হয়েছে কিনা, সেটাও আমরা দেখবো। ”
জঙ্গিরা কারাগারে বসেই মোবাইল ফোনে বাইরে সহযোগীদের সাথে যোগাযোগ রাখছে, এমন অভিযোগও এখন সামনে আসছে।

ছবির উৎস, focusbangla
কারাকর্তৃপক্ষ অবশ্য এমন অভিযোগ মানতে রাজি নয়।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বন্দিদের যে কোন ফোন ব্যবহার কারাগারে নিষিদ্ধ । এরপরও এ ধরণের কোন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য কারাগার কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২৩শে ফেব্রুয়ারি তিনজন জঙ্গিকে যখন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল, তার কয়েকঘন্টার মধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছিল।
আটক ঐ জঙ্গি পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় বলে বলা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ রায় বলেছেন, বাকি দু’জন জঙ্গিকে আটকের বিষয়টি সর্ব্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
অন্যদিকে, সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গিদের বাইরে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে যে দু’জনকে আটক করা হয়েছে, তাদের একজনকে সোমবার ময়মনসিংহের আদালতে হাজির করে দশ দিনের পুলিশী রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।








