ধনাঢ্য ভারতীয় ব্যবসায়ী আবারও জেল হেফাজতে

ক্ষুব্ধ এক ব্যক্তি সুব্রত রায়ের মুখে কলমের কালি ছুঁড়ে মারেন
ছবির ক্যাপশান, ক্ষুব্ধ এক ব্যক্তি সুব্রত রায়ের মুখে কলমের কালি ছুঁড়ে মারেন
    • Author, অমিতাভ ভট্টশালী
    • Role, বিবিসি বাংলা, কলকাতা
  • Published

ভারতের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি আমানত সংগ্রহকারী ও শিল্প গোষ্ঠী সাহারা-র মালিক সুব্রত রায়কে সেদেশের সর্বোচ্চ আদালত জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে।

বে-আইনি-ভাবে সংগ্রহ করা প্রায় উনিশ হাজার কোটি ভারতীয় টাকা কিভাবে আমানতকারীদের ফেরত দেবে সাহারা গোষ্ঠী, তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা না দেওয়া পর্যন্ত হেফাজতেই থাকতে হবে মি. রায়কে।

আদালতে হাজিরার নির্দেশ একাধিকবার অমান্য করায় শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গ্রেপ্তার করা হয় সুব্রত রায়কে।

সুব্রত রায় ও অন্য দু’জন পরিচালককে ১১ই মার্চ আদালতে হাজির করাতে হবে।

ততোদিন তাঁরা দিল্লির তিহার জেলেই থাকবেন।

যদিও তাকে গত শুক্রবার আদালতের নির্দেশ বারবার অমান্য করার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কিন্তু আজ আদালত জানিয়েছে সাহারা গোষ্ঠীর দুটি কোম্পানি – প্রায় তিন কোটি টাকা আমানতকারীর কাছ থেকে বে-আইনি-ভাবে সংগ্রহ করেছিল, সেটা ফিরিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা দিতে হবে মি. রায়কে।

সেই পরিকল্পনা আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

এই টাকা নগদে দেওয়া যাবে না, চেক বা ব্যাঙ্ক ড্রাফটের মাধ্যমে দিতে হবে – তা-ও বলেছে আদালত।

আজ যদিও আদালতে সাহারার আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে প্রত্যেক আমানতকারীকেই টাকা ফেরত দিয়ে দেবে তারা – কিন্তু এতদিন আদালতে হলফনামা পেশ করে ও সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাহারা গোষ্ঠী দাবি করে এসেছে, যে ৫২০০ কোটি টাকা তারা আমানতকারীদের ফেরত দিয়েছে, তাতেই সব টাকা ফেরত দেওয়া হয়ে গেছে।

মিথ্যা হলফনামা পেশ করার জন্যও আজ আদালত ভর্ৎসনা করেছে সাহারা গোষ্ঠীকে।

আজই একটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ গাড়িতে করে লক্ষ্ণৌ থেকে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয় সুব্রত রায়কে।

আদালতে পৌঁছাতেই এক ব্যক্তি সুব্রত রায়ের মুখে কালি ছিটিয়ে দেন।

কালি ছিটিয়ে দেওয়া ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলছিলেন তার নাম মনোজ শর্মা।

তিনি একজন আইনজীবী ও গোয়ালিয়রের বাসিন্দা।

“সুব্রত রায় একজন চোর। আমি চোরদের বিরুদ্ধে লড়াই করি। তাই কালি ছিটিয়েছি,” সাংবাদিকদের জানান মি. শর্মা।

পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত নয় – সাহারার এমন দুটি কোম্পানি যারা জমি-বাড়ির ব্যবসায় জড়িত, তারা শেয়ার ও ডিবেঞ্চার বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করতে শুরু করে ২০০৮ সাল থেকে।

ভারতের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক – সিকিওরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড বা সেবি ২০১১ সালেই নির্দেশ দিয়েছিল যে ওই আমানত সংগ্রহ বে-আইনি, ১৫% সুদসহ ওই টাকা ফেরত দিতে হবে।

সে বি-র বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালত পর্যন্ত গিয়েও রেহাই পায় নি সাহারা।

কিছু টাকা আর কয়েক ট্রাক সম্পত্তির দলিল সেবির কাছে জমা দেয় সাহারা।

তবে সেই সব সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা আদায় করার মতো পরিকাঠামো তাদের নেই জানিয়ে দেয় সেবি।

সাহারা গ্রুপের চেয়ারম্যান সুব্রত রায়
ছবির ক্যাপশান, সাহারা গ্রুপের চেয়ারম্যান সুব্রত রায়

ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দেখাতে বলা হয় সাহারাকে।

ইতিমধ্যে সাহারার কাছ থেকে আদায় করা টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করতে গিয়ে প্রচুর ভুয়ো আমানতকারীর সন্ধান পায় সেবি।

মনে করা হচ্ছে, বিভিন্ন মান্যগণ্য ব্যক্তি নিজেদের নাম গোপন করে সাহারায় বিনিয়োগ করেছিলেন।

অনেক বিদেশি আমানতকারীও রয়েছেন – যাদের খোঁজে সেবি বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রকদের সাহায্য নিচ্ছে।

সুব্রত রায়ের সাহারা গোষ্ঠী ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্পন্সর ছিল দীর্ঘদিন।

রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি উত্তরপ্রদেশের মুলায়ম সিং যাদবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

চলচ্চিত্র ক্ষেত্রের দিকপাল ব্যক্তিরাও মি. রায়ের খুবই ঘনিষ্ঠ।

সাহারা গোষ্ঠী এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের স্পন্সর আর সেদেশে তিনি বড় মাপের কয়েকটি বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।