উদীচী সমাবেশে হামলার বিচার নিয়ে হতাশা

২০০৪ সালে একুশে আগষ্টের গ্রেনেড হামলার পরের দৃশ্য। বাংলাদেশে এর আগে ও পরে বিভিন্ন জায়গায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। -ফাইল ছবি
ছবির ক্যাপশান, ২০০৪ সালে একুশে আগষ্টের গ্রেনেড হামলার পরের দৃশ্য। বাংলাদেশে এর আগে ও পরে বিভিন্ন জায়গায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। -ফাইল ছবি
    • Author, আকবর হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশে ১৯৯৯ সালে সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচীর সমাবেশে বোমা হামলার ১৫ বছর পূর্ণ হলো। যশোরের একটি আদালতে এই ঘটনার বিচারকাজ হলেও কেউই শাস্তি পায়নি।

অভিযোগ রয়েছে পরপর দুই সরকারের সময় রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে অভিযোগপত্র বা চার্জশীট দেয়া হয়েছে।

এনিয়ে ঘটনার ভিকটিম এবং উদীচীর মধ্যে হতাশা রয়েছে।

উদীচীর সমাবেশে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত এবং ১৫০ জনের মত আহত হয়েছিল। আহতদের অনেকেই তাদের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়েছিল।

সেই ঘটনার পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সিআইডি যে চার্জশীট দিয়েছিল সেখানে বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম সহ ২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

কিন্তু এর পর উচ্চ আদালতের মাধ্যমে তরিকুল ইসলামের নাম চার্জশীট থেকে বাদ দেয়া হয়। বাকি ২৩ জনের বিচার হয় যশোরের একটি আদালতে যাদের অনেকেই বিএনপি ও তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত।

২০০৬ সালের রায়ে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণের অভাবে সেই ২৩ জনকে আদালত খালাস দেয়। যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল কাদের জানান মামলাটি এখন উচ্চ আদালতে রয়েছে।

বাংলাদেশে উদীচীকে প্রথম সারির একটি অন্যতম সংগঠন বলে বিবেচনা করা হয়। সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা চালানোর সেটিই ছিল প্রথম ঘটনা।

এই ঘটনার পর অভিযোগপত্র দেয়া কিংবা বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে হামলার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে। এদের একজন যশোরের সুকান্ত দাশ। বোমা হামলায় তিনি একটি পা হারিয়েছিলেন।

সুকান্ত দাস বলেন , “ একটা ঘটনা ঘটেছিল। অনেকে মারা গিয়েছিল এবং অঙ্গ হারিয়েছিল। ১৫ বছরে যদি আমাদের সরকার সে বিষয়টি উদঘাটন করতে না পারে, তাহলে আমি বলবো সে ব্যর্থতা পুরোপুরি সরকারের।”

মি: দাস মনে করেন ‘রাজনৈতিক সংকীর্ণতার’ কারনে সুষ্ঠু কোন বিচার হয়নি।

যশোরের পাবালিক প্রসিকিউটর আব্দুল কাদের জানান উচ্চ আদালতের মাধ্যমে চার্জশীট থেকে বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের নাম বাদ দেবার পর বাকি ২৩ জনের বিচার হয় যশোরের বিশেষ আদালতে।

২০০৬ সালে আদালত পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমানের অভাবে ২৩জনকেই খালাস দেয়। স্থানীয়রা জানান এদের অনেকেই বিএনপি এবং তার সমমনা রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত।

পাবলিক প্রসিকিউটর মি: ইসলাম জানান সেই খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টে আপীল দায়ের করে। এখন বিষয়টি আদালতে সেভাবেই আছে বলে উল্লেখ করেন পাবলিক প্রসিকিউটর।

উদীচীর সমাবেশে বোমা হামলার সাথে জঙ্গী সংগঠনের সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন সূত্র থেকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

২০০৭ সালে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলার সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবরাখবর বের হয়।

অনেকেই মনে করেন উদীচীর সমাবেশে হামলাটি ছিল জঙ্গীদের সূচনা যেটি পরবর্তীতে আরও বিস্তার লাভ করে।

উদীচীর সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদার বলছিলেন সে ঘটনার দ্রুত বিচার হলে পরবর্তীতে অনেক কিছু এড়ানো সম্ভব হতো।

মি: সরদার , “বিষয়টা আমাদের কাছে মনে হচ্ছে প্রহসন। এ ঘটনার বিচার হলো না।”

মি: সরদার মনে করেন এটি নিয়ে ‘রাজনৈতিক খেলা’ হচ্ছে।

এদিকে আজ বোমা হামলার ১৫ বছরে এসে উদীচী দেশের বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ করেছে। যেসব জায়গা থেকে সেই ঘটনার পুনরায় তদন্ত ও বিচার দাবী করছে সংগঠনটি।