রানা প্লাজা ধসের শিকার অধিকাংশই কাজ পাননি

ছবির উৎস, Getty
- Author, শাহনাজ পারভীন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
- পড়ার সময়: ৩ মিনিট
রানা প্লাজা ধসের ঘটনার শিকার হয়েও যারা বেঁচে গিয়েছেন তাদের অধিকাংশই এখনো তাদের স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরতে পারেন নি। এর প্রধান দুটি কারণ হলো ওই ঘটনাজনিত শারীরিক ও মানসিক সমস্যা।
গত বছর ২৪শে এপ্রিল ঢাকার কাছে সাভারে রানা প্লাজা নামের বহুতল ভবন ধসে পড়ে ১১শও বেশি লোক নিহত হন - যার অধিকাংশই ছিলেন ভবনটিতে থাকা গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিক। প্রায় ২৪শ লোককে ভবনের ধ্বংসস্তুপ থেকে বের করা হয় - যাদের অনেকেই অঙ্গহানির শিকার হন। এটি হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন শিল্পকারখানায় সবচাইতে বড় দুর্ঘটনা।
সেই ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এই জরিপটি চালিয়েছে এ্যাকশনএইড - আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও সহ দুটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায়।
আজ ঢাকায় প্রকাশিত জরিপটির রিপোর্টে বলা হয়, ওই ঘটনার পর বেঁচে যাওয়া মোট ১ হাজার ৪৩৬ জনের ওপর জরিপ চালিয়ে তারা দেখেছেন - তাদের মধ্যে ৭৩ দশমিক ৭ শতাংশই এখনো কোন কাজে ফিরতে পারেন নি।
এর কারণ হিসেবে প্রায় ৬৪ শতাংশ ক্ষেত্রে শারীরিক সমস্যা, এবং প্রায় ২৪ শতাংশ ক্ষেত্রে মানসিক বিপর্যয়জনিত (ট্রমা) সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে সাত শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে নিয়োগদাতারা রানা প্লাজা ধসের শিকার এমন লোকদের চাকরি দিতে চান না। জরিপে আরো বলা হয়, অধিকাংশ শ্রমিককে নানা শারীরিক সমস্যা নিয়ে এখনো চিকিৎসকের কাছে নিয়মিত যেতে হচ্ছে।
কেউ এখনো এক পয়সাও ক্ষতিপূরণ পান নি

ছবির উৎস, Reuters
জরিপে বলা হয়, ঘটনার পর এক বছর পার হতে চললেও ওই ঘটনার শিকার যারা হয়েছিলেন তারা বা তাদের পরিবারের সদস্যরা এখনো কোন ক্ষতিপূরণ পান নি।
তবে অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর তহবিলসহ বিভিন্ন উৎস থেকে থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদিত পোশাকে ক্রেতা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং আইএলও মত কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে।
রানা প্লাজা ধসের পর পরই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এবিষয়ে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয় যাতে অনেক ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান অর্থ দান করেন। এখন পর্যন্ত এই তহবিলে ১০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ তোলা হয়েছে। কিন্তু কয়েকটি ধাপে আর্থিক সহায়তা হিসেবে শ্রমিকদের দেয়া হয়েছে মাত্র ২৩ কোটি টাকা।
তবে সরকারের দিক থেকে হতাহত শ্রমিকদের পরিবারকে যে অর্থ দেয়া হয়েছে - শ্রমিকনেতারা বলছেন, সেটি ক্ষতিপূরণ নয়। শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা বা আইএলও’র তত্তাবধানে যে 'রানাপ্লাজা ডোনার ট্রাষ্ট ফান্ড' গঠন করা হয়েছে তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিদেশী পোশাক ব্র্যান্ড এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ উত্তোলন করা ।
এক বছর পরও রানা প্লাজার শ্রমিকরা কেন তাদের পাওনা ক্ষতিপূরণ পেলেন না?
শ্রম অধিকার নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ বা বিল্সের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত উপযুক্ত আইনী কাঠামো এবং সময়মত উদ্যোগ নেবার অভাবই এর প্রধান কারণ। সৈয়দ সুলতানউদ্দিন আহমেদের সাক্ষাৎকারটি শুনুন এখানে>
ক্ষতিপূরণ দেবার বিষয়ে বিদেশী ক্রেতাদের দিক থেকে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন ইন্ড্রাসটিঅল-এর বাংলাদেশ শাখা। এ নিয়ে ঢাকায় তারা একটি মানববন্ধন কর্মসূচীও পালন করেছে।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেবার জন্য রানা প্লাজা ডোনার ট্রাষ্ট ফান্ডে এখনও পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক অর্থও আসেনি। ইন্ডাস্ট্রিঅলের নেতা রায় রমেশ বলছেন, ট্রাষ্ট ফান্ডে ৪০ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখনও পর্যন্ত ১৭ মিলিয়ন ডলার এসেছে বা প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এটিকে হতাশাজনক বলে বর্ণনা করেন শ্রমিক নেতা রায় রমেশ।
রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারগুলোর ৭৮৬ জন সদস্য এবং ওই ঘটনার শিকার হয়ে যারা বেঁচে গেছেন তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৩৬ জনের ওপর এই জরিপটি চালায় এ্যাকশন এইড।

রানা প্লাজা ডোনার ট্রাষ্ট ফান্ড –এর আওতায় ক্ষতিপূরন পাবার লক্ষ্যে নিহত শ্রমিকদের পরিবার এবং আহত শ্রমিকরা এরই মধ্যে নাম নিবন্ধন শুরু করেছেন ।
মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া আগামী দুইমাস চলবে । এরপর হিসেব- নিকাশ করে অর্থ সহায়তার পরিমান নির্ধারণ করা হবে ।
তৈরী পোশাক শিল্প বিষয়ক গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন ট্রাষ্ট ফান্ডের আওতায় যে অর্থ দেয়া হবে সেটা ক্ষতিপূরণ কিনা এবং এর আইনগত ভিত্তি কি হবে সেটি নিয়ে বিদেশী ক্রেতাদের ধারণা স্পষ্ট নয়।
এখনও পর্যন্ত ট্রাষ্ট ফান্ডে যে ১৭ মিলিয়ন ডলার এসেছে তার বেশিরভাগই দিয়েছে ইউরোপীয় ক্রেতারা। আমেরিকার ক্রেতাদের মধ্যে শুধু ওয়ালমার্ট রয়েছে বলে শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন ।
গত বছর ২৪শে এপ্রিল ঢাকার কাছে সাভারে রানা প্লাজা নামের বহুতল ভবন ধসে পড়ে ১১শর বেশি লোক নিহত হন - যারা মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ওই ভবনটিতে থাকা পাঁচটি পোশাক কারখানার শ্রমিক।
যেমনটা শুনছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে শোচনীয় এই শিল্প দুর্ঘটনার পর এক মাস সময় পার হলেও এখনো শ্রমিক কিংবা তাদের পরিবারকে একটি পয়সাও ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। তাহলে এ








