বিজ্ঞানের আসর

Published

গভীর সমূদ্র থেকে আসা এক অদ্ভূত আওয়াজ ধাঁধাঁয় ফেলে দিয়েছিল বিজ্ঞানীদের। তারা বুঝতেই পারছিলেন না এই আওয়াজ কিসের। অনেকটা হাঁসের ডাকের মতো এই শব্দ শোনা যায় অ্যান্টার্কটিকা আর অস্ট্রেলিয়ার আশে-পাশের গভীর সমূদ্রে। বিজ্ঞানীরা অবশেষে এই রহস্যের মীমাংসা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনোগ্রাফিক এন্ড এটমোসফেয়ারিক এডমিনিস্ট্রেশন বা নোয়া’র বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি আসলে গভীর সমূদ্রে তিমিদের কথা-বার্তার আওয়াজ, যা কেবল শীতকালে শোনা যায়। বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন নোয়া’র বিজ্ঞানী ডেনিস রিশ।

“আমাদের সন্দেহ ছিল হয়তো অ্যান্টার্কটিকা মিংক তিমি থেকেই এই শব্দটা আসছে। কারণ আ্যান্টার্কটিকার আশে পাশের সমুদ্রে এই তিমি প্রচুর সংখ্যায় আছে। তবে যেহেতু এই মিংক তিমির আওয়াজ সম্পর্কে কোন ধারণা আমাদের এতদিন ছিল না। তাই ব্যাপারটা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। আমরা যেটা করেছি, তা হলো এই মিংক তিমির শরীরে যন্ত্র লাগিয়ে দিয়ে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছি, আর তারপর এই শব্দ রেকর্ড করেছি। কাজটা খুব কঠিন ছিল। কিন্তু যখন আমরা এই রেকর্ড করা শব্দ শুনলাম, আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, এটা সেই একই শব্দ।

তবে মিংক তিমি ঠিক কোন ধরণের পরিস্থিতিতে এরকম শব্দ করে, সেটা এখনো বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন নি। তবে এই রহস্যের মীমাংসার ফলে এখন মিংক তিমির ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা অনেক কিছু জানতে পারবেন বলে আশা করছেন।

চেক-জার্মান সীমান্তের হরিণ

ইউরোপের দেশগুলোতে কমিউনিষ্ট শাসনের অবসানের আগে পূর্ব আর পশ্চিম ইউরোপে দেশগুলোর সীমান্ত বরাবর ছিল প্রচন্ড কড়াকড়ি। বার্লিন শহর তো দেয়াল তুলেই ভাগ করে ফেলা হয়েছিল পূর্ব আর পশ্চিম জার্মানীর মধ্যে। চেকোশ্লাভাকিয়া আর পশ্চিম জার্মানীর সীমান্তে ছিল বৈদ্যুতিক তারের বেড়া। কমিউনিজমের পতন ঘটেছে প্রায় সিকি শতাব্দী আগে, সাবেক কমিউনিষ্ট দেশগুলোর বেশিরভাগই এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিয়ে তাদের সীমান্ত অবারিত করে দিয়েছে। মানুষ এখন অবাধে যাতায়াত করছে এসব দেশের সীমান্ত দিয়ে। কিন্তু চেক আর জার্মান সীমান্তের একটা জায়গায় দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায় যেসব হরিণ, তাদের আচরণে একটা অদ্ভূত ব্যাপার চোখে পড়েছে গবেষকদের। তারা দেখলেন, এসব হরিণ সেই কমিউনিষ্ট জমানার সীমান্ত এখনো মেনে চলেছে, চেক বা জার্মানীর দিকের হরিণ সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে না।

স্নায়ু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর জন্মেছে এমন তিনশো লাল হরিণের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে গবেষণাটি চালিয়েছেন চেক গবেষক পাভেল সাস্টর। তিনি ব্যাখ্যা করছিলেন হরিণদের এই আচরণ।

“আমরা যেসব হরিণের ওপর গবেষণা চালাই, তাদে গড় বয়স পনের বছর। সুতরাং বলতে পারেন, হরিণদের এই আচরণ আসলে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়েছে। হরিণদের এরকম আচরণের কারণ আছে। কারণ জন্মের পর প্রথম বছরটা হরিণ শাবকরা তাদের মায়ের সঙ্গেই কাটায়। মায়ের সঙ্গে থেকে তারা শেখে ঠিক কোন জায়গাটা জুড়ে বিচরণ করা যাবে, কোথায় যাওয়া যাবে, কোথায় যাওয়া যাবে না। শুধু প্রথম বছর নয়, হরিণ শাবকরা পরবর্তী বছরগুলোতেও এই আচরণ মেনে চলে। কাজেই চেক আর জার্মান সীমান্তের হরিণদের এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে এই একই আচরণের পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে পাচ্ছি।”

মানবভ্রুণের জন্ম রহস্য

মানবভ্রুণের জন্ম হয় গর্ভধারণের মাধ্যমে, এই গর্ভধারণ জীববিজ্ঞানের এক জটিল প্রক্রিয়া। খুব সহজ করে বলতে গেলে পুরুষের শুক্রাণু আর নারীর ডিম্বানুর মধ্যে কিছু প্রোটিন থাকে, যেগুলো গর্ভধারণের জন্য খুবই দরকারি। শুক্রানুর যে প্রোটিন, তা আবিস্কৃত হয় ২০০৫ সালে। এর নাম দেয়া হয় ইজুমো ওয়ান, জাপানের এক বিয়ের মন্দিরের নাম অনুসারে। এখন বিজ্ঞানীরা ডিম্বানুর প্রোটিনও আবিস্কার করতে পেরেছেন। গর্ভধারণের রোমান দেবীর নামানুসারে এটির নাম রাখা হয়েছে জুনো। গর্ভধারণ রহস্যের তালাচাবি মনে করা হচ্ছে এই দুটি প্রোটিনকে। বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় নতুন যেসব তথ্য জানতে পেরেছেন তার ভিত্তিতে এখন আরও নিরাপদ ও কার্যকর জন্মনিরোধক বড়ি তৈরি করা যাবে বলে আশা করছেন।