খোঁড়া অজুহাতে র‍্যাব কর্মকর্তাদের গ্রেফতারে বিলম্বের অভিযোগ

হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জন্য সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে
ছবির ক্যাপশান, হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জন্য সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় র‍্যাবের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আইনগত জটিলতার কারণে এদের ধরতে বিলম্ব হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, র‍্যাবের এই সাবেক তিনজন কর্মকর্তা সামরিক বাহিনীতে ছিলেন, সে কারণে গ্রেফতার প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

“সামরিক বাহিনীর কেউ ফৌজদারি অপরাধ করলেও তাকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে বাহিনীর কিছু বিধি আছে। আর এই তিনজন কর্মকর্তা অবসরে গেলেও তারা অবসর পূর্ব ছুটিতে (এলপিআর) আছেন। ফলে আইনগত কিছু জটিলতা হয়েছিল। তার সমাধানে কিছুটা সময় লাগলো।এতে অন্য কোন বিষয় ছিল না।”

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই যুক্তিকে একেবারেই খোঁড়া অজুহাত বলে বর্ণনা করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

ফৌজাদারি আইনে অন্যতম একজন বিশেষজ্ঞ জেড আই খান পান্না মনে করেন, সামরিক বাহিনী থেকে এই তিনজন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর পর তাদের গ্রেফতারে আইনগত কোন বাধা নেই। তার মতে, সরকার একটা খোঁড়া অজুহাত খাড়া করতে চাইছে।

“”

নারায়ণগঞ্জ সাত জনকে অপহরণ করে হত্যা এবং তাদের লাশ নদীতে ফেলে গুম করার চেষ্টায় শুরু থেকেই র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাবের তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয় এবং তাদের সামরিক বাহিনী থেকেও অকালীন অবসর দেয়া হয়।

বাংলাদেশে এদের অবিলম্বে গ্রেফতারের জন্য আদালতের নির্দেশের পরও এখনো তাদের ধরা হয়নি।

এদিকে সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, র‍্যাবের এই সাবেক তিনজন কর্মকর্তার নাম এজাহারে নেই। তদন্তকারি কর্মকর্তা যদি মনে করেন যে , এদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ তার কাছে এসেছে, তাহলে তদন্তকারি কর্মকর্তাই গ্র্রেফতারের জন্য দরখাস্ত করতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।

আইনজীবী জেড আই খান পান্না অবশ্য ভিন্ন তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় নাম না থাকলেও তাদের গ্রেফতারের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে। সেখানে আদালত সন্দেহবশত আটকের ৫৪ ধারা প্রয়োগ করতে বলেছে। কিন্তু সেই নির্দেশ মানার ক্ষেত্রে বিলম্ব করা হচ্ছে।