তুরস্কে খনি দুর্ঘটনার প্রতিবাদে দেশজুড়ে ধর্মঘট

turkey mine
ছবির ক্যাপশান, তুরস্কের দুর্ঘটনা কবলিত খনিতে উদ্ধারকাজ
Published

তুরস্কের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনার পর ট্রেড ইউনিয়নগুলো এর বিরুদ্ধে আজ দেশ জুড়ে ধর্মঘট করছে।

ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এই দুর্ঘটনার জন্য সরকারের অবহেলাকে দায়ী করছেন।

তারা বলছেন, তুরস্কে খনিগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার পর এগুলোর নিরাপত্তার দিক উপেক্ষিত হয়েছে।

তুরস্কের সোমায় এই দুর্ঘটনার পর এ পর্যন্ত ২৮২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল আজ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী রেচেপ তাইয়িপ এরদোয়ান দুর্ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর জনতার হাতে নিগ্রহের শিকার হন।

আরও প্রায় একশো শ্রমিক এখনো খনির ভেতরে আটকে আছে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকারিরা তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু খনির ভেতরে আগুন জ্বলতে থাকায় তাদের কাছে পৌঁছানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

ব্যাপক বিক্ষোভ

দুর্ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানী আঙ্কারা এবং ইস্তানবুল শহরে গতকালও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী রেচেপ তাইপ এরদোয়ান যখন সেই খনি এলাকা দেখতে যান তখন তাকেও ঘিরে ফেলে বিক্ষোভকারীদের দল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জল কামান ব্যাবহার করে।

খনি এলাকা পরিদর্শন করতে গেলে উত্তেজিত জনতা তাঁর গাড়িতে লাথি মারতে থাকে এবং তার পদত্যাগের দাবি জানায়।

bbc
ছবির ক্যাপশান, বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ছোড়া হচ্ছে

জনতার হাত থেকে বাঁচতে মি. এরদোয়ান অবশেষে একটি দোকানে আশ্রয় নেন।

এসময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষাভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জল কামান ব্যাবহার করে।

কয়লাখনির শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে অবহেলা করেছে বলে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে বিক্ষোভকারীরা।

তুরস্কের মানিসা প্রদেশের সোমা শহরে মঙ্গলবার এই খনিতে যখন বিস্ফোরণ হয়, ভেতরে তখন ৭৮৭ জন শ্রমিক কাজ করছিল বলে জানা যাচ্ছে।

খনির প্রায় দু কিলোমিটার গভীরে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে বায়ু নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রধানত কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ায় শ্রমিকদের মৃত্যু হয়।

তিন দিনের জাতীয় শোক

নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তুরস্কের সরকার তিন দিনের জাতীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী রেচেপ তাইপ এরদোয়ান আলবেনিয়াতে তার পূর্ব-নির্ধারিত একটি সফর বাতিল করেছেন।

খনি দুর্ঘটনা নতুন কোন ঘটনা নয় তুরস্কে।

এর আগে ১৯৯২ সালে তুরস্কের সবচেয়ে ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনায় ২৬৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিল।

সোমার খনিগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও কমবেশি উদ্বেগ সব সময়ই রয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু ছোটোখাটো দুর্ঘটনা হয়েছে।

মঙ্গলবারের দুর্ঘটনার পর তুরস্কের বিরোধী দল সিএইচপি'র একজন এমপি বলেন সাম্প্রতিক সময়ে সোমায় খনি দুর্ঘটনাগুলোর তদন্ত করার জন্য তাদের এক প্রস্তাব সরকারের বিরোধিতার কারণে সংসদে খারিজ হয়ে যায়।

তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি বলছে খনির নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাদের উদ্বেগ সরকার অগ্রাহ্য করেছে।

ফলে মঙ্গলবারের দুর্ঘটনার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।