সোনিয়া রাহুলের ইস্তফা গ্রহণ করেনি কংগ্রেস

sonia gandi rahul gandhi
ছবির ক্যাপশান, সোনিয়া ও রাহুল গান্ধীর ইস্তফা গ্রহন করেনি কংগ্রেস
Published

ভারতের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল কংগ্রেস নির্বাচনে তাদের শোচনীয়তম ফল করার পর দলের প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধী ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী আজ ইস্তফা দিতে চাইলেও দল তা গ্রহণ করেনি।

বরং নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে দলের নেতারা যে বৈঠকে বসেছিলেন, সেখানে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, সরকারের ব্যর্থতার সব দায়ই তার।

আজকের বৈঠকের পর এটাও স্পষ্ট হয়ে গেছে যে এই মুহুর্তে কংগ্রেসের নেতৃত্ব নেহরু-গান্ধী পরিবারের বাইরে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই।

ভারতে টানা দশ বছর ক্ষমতায় থাকার পর কেন দল সারা দেশে মাত্র ৪৪টি আসন পেল, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা আজ বৈঠকে বসেছিলেন তারই বিশ্লেষণ করতে।

দিল্লিতে ২৪ নম্বর আকবর রোডে, কংগ্রেসের সদর দফতরে দলের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধী প্রথমেই জানিয়ে দেন, নির্বাচনে বিপর্যয়ের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চান।

কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বাধা দিয়ে ওঠেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।

বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সেটা জানাতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা জনার্দন দ্বিবেদী বলছিলেন, ‘ড: মনমোহন সিং তখন মন্তব্য করেন, সরকারের যা কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল তার দায়িত্ব তো আমার।’

‘মূল্যবৃদ্ধি বা দুর্নীতি নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, বোধহয় আমরা তার সঠিক জবাব দিতে পারিনি।

কিন্তু দলের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট যে পরিশ্রম করেছেন, যেরকম চেষ্টা করেছেন তা ছিল সত্যিই অসাধারণ’, বলেন ড: সিং।

সোনিয়া গান্ধীর কাছ থেকে পরাজয়ের দায় ছিনিয়ে নিলেও মনমোহন সিং কিন্তু রাহুল গান্ধীর ইস্তফা পেশ ঠেকাতে পারেননি।

জনার্দন দ্বিবেদী বলছিলেন, বৈঠকে এরপর দলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীও তার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, ‘রাহুলজী এরপর বলেন দলে যেমন দায়বদ্ধতা থাকা দরকার সেটা এখন নেই – আর আমি চাই আমাকে দিয়েই সেটা শুরু হোক।’

‘লোকে আমার কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করেছিল সেটাও আমি পূরণ করতে পারিনি। তাই আমি চাই পদত্যাগ করতে।’

‘কিন্তু তখন পুরো ওয়ার্কিং কমিটি একবাক্যে, এক সুরে বলে ওঠে – না-না, এই প্রস্তাব নিয়ে কোনও আলোচনাই হবে না!’

ফলে শেষ পর্যন্ত সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী – উভয়ের ইস্তফার ইচ্ছাই নাকচ হয়ে যায়।

আর এটাও স্পষ্ট হয়ে যায়, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বে এই মুহুর্তে কোনও পরিবর্তনই হচ্ছে না।

নির্বাচনী বিপর্যয়ের দায় থেকেও অন্তত কাগজে-কলমে দল তাদের সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিয়েছে।

ব্যর্থতার দায় নিয়েছেন শুধু মনমোহন সিং – যিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পাশাপাশি কার্যত অবসর নিচ্ছেন সক্রিয় রাজনীতি থেকেও।