গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শন নিয়ে এইচআরডাব্লিউ

garments safety
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোয় নিরাপত্তার মান যাচাইয়ের কাজ চলছে গত কয়েকমাস ধরে।
    • Author, ফরিদ আহমেদ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচ তাদের এক বিবৃতিতে বলছে বাংলাদেশ সরকার এবং ক্রেতা সংগঠনগুলো দেশটির পোশাক কারখানাগুলোয় নিরাপত্তা পরিদর্শন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে মূলত ব্যর্থ হয়েছে।

এপ্রিল ২০১৩-এ রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানগুলোয় নিরাপত্তার মান যাচাইয়ের লক্ষ্যে যে পরিদর্শনের কাজ চলছে তাতে বের হয়ে আসা তথ্যগুলো বাংলাদেশ সরকার এবং ক্রেতারা সবাইকে জানাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে ব্যাংকক থেকে প্রচারিত এই বিবৃতিতে অভিযোগ করছে হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচ।

তারা বলছে ইংরেজি এবং বাংলা দুই ভাষাতেই পরিদর্শন বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা উচিত এবং তা যাতে শ্রমিকরা জানতে পারে সেটা নিশ্চিত করা উচিত।

সংস্থার এশিয়া বিভাগের উপ-পরিচালক ফিল রবার্টসন বলছেন, ''কারখানা পরিদর্শনের বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশ করতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে নিরাপদ করার এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করার প্রয়াস ব্যর্থ হবে।''

''এসব তথ্য শ্রমিকদের জানা প্রয়োজন, যাতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এইসব কারখানায় কাজ করা নিরাপদ কীনা সে বিষয়ে শ্রমিকরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন,'' বলেন মিঃ রবার্টসন।

তবে একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরির কাজ চলছে যা সম্পন্ন হলেই এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করা যাবে বলে বলেছেন বাংলাদেশের শ্রম সচিব মিকাইল শিপার।

'' ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার কারখানা পরিদর্শনের কাজ শেষ হয়েছে। যা দেখা গেছে সেটা যাতে একটা কমন টেমপ্লেটে বের হয় সেজন্য কাজ চলছে। টেমপ্লেট তৈরি হলে যে পাবলিক্‌লি অ্যাক্সেসেবল ডাটাবেইজ তৈরি হয়েছে তাতে দিয়ে দেওয়া হবে। যতোটা শেষ হয়েছে তা দিয়ে শুরু করবো, কিন্তু টেমপ্লেটের বিষয়ে ২-৩ টা বৈঠক হয়েছে সবার সাথে।''

মিঃ শিপার জানান ইতোমধ্যেই শ্রম মন্ত্রণালয়ের কারখানা পরিদর্শকদের করা প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে, তবে সেখানে ভবনের কাঠামোগত বিষয় এবং অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টি নেই।

garments demo
ছবির ক্যাপশান, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোয় নিরাপত্তার দাবিতে দেশে-বিদেশে আন্দোলন হয়েছে।

অভিন্ন কাঠামোটি সুনির্দিষ্ট হলে তা ওয়েবসাইটে দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কিন্তু শ্রমিক নেতারা বলছেন এই প্রতিবেদনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো যেসব কারখানা পরিদর্শনের পর বন্ধ হয়েছে সেগুলোর শ্রমিকদের মজুরির বিষয়টি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ বিলসের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ সুলতানউদ্দিন আহমদ বলছেন এছাড়াও কারখানা বন্ধ হওয়া সম্পর্কিত তথ্য শ্রমিকদের জন্য জরুরি।

''সবচেয়ে জরুরি যে তথ্যটি শ্রমিকদের জানা দরকার সেটি হলো যে কারখানাটি বন্ধ হচ্ছে সেটি কবে ও কেন বন্ধ হচ্ছে এবং শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থ তারা কীভাবে, কবে পাবেন সে বিষয়টি। এটি নিশ্চিত করাই শ্রমিকদের জন্য বেশি জরুরি। ঢাকা ও চট্টগ্র্রামে যে কয়টি কারখানা বন্ধ হয়েছে তা তাৎক্ষণিককভাবে বন্ধ হয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে শ্রমিকরা তাদের কোন প্রাপ্য অধিকারই পাচ্ছে না। এটি মানবাধিকারের চরম লংঘন। এক্ষেত্রে সরকারের বড় দায়িত্ব আছে।''

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড আর মার্চে উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স তাদের জোটভুক্ত কারখানাগুলোতে পরিদর্শনের কাজ শুরু করে।

মিঃ শিপার জানিয়েছেন গত কয়েকমাসে প্রায় এক হাজারের মত কারখানা পরিদর্শনের কাজ শেষ হয়েছে এবং নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ছয়টি ভবনে অবস্থিত ১৪টি কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর ঐসব কারখানায় শ্রমিকদের প্রাপ্য আদায়ে তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এসব কারখানায় প্রায় ১০ হাজার পোশাক শ্রমিক কর্মরত ছিল বলে জানান মিঃ শিপার।

তবে সৈয়দ সুলতানউদ্দিন আহমদ বলছিলেন এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে অনেক গার্মেন্টস্ মালিক তাদের শ্রমিকদের পুরনো দেনা পাওনা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে যা সরকারকে শ্রমিকদের স্বার্থে খতিয়ে দেখতে হবে।