'মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত বিএনপি'

bnp fakhrul
ছবির ক্যাপশান, মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
Published

বাংলাদেশে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসাচিব বিবিসিকে বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন কিভাবে তা হতে পারে তা নিয়ে আলোচনায় তাদের দল প্রস্তুত।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন এবং বিএনপি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কিছু মন্তব্যের আজ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব। ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, নির্বাচন না করার পরিণতিতে বিএনপিকে এখন 'ফরমালিন দিয়ে' টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।

এর জবাবে সংবাদ সম্মেলনের পর বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মীর্জা ফখরুল বলেন, এগুলো রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত কথা যা মূল প্রসঙ্গ থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দেবার জন্যই বলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সকল দলের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের উপায় বের করা সম্ভব। তবে বিএনপি এখনও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতেই অটল রয়েছে কি না, সে প্রশ্নে সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান ফখরুল ইসরাম আলমগীর।

শেখ হাসিনা গতকাল মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও একইসাথে মন্তব্য করেছিলেন, নির্বাচন দিলেই যে বিএনপি অংশ নেবে তার কি গ্যারান্টি?

মি. আলমগীর বলেন, বিএনপি নির্বাচন চাচ্ছে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন কোন নির্বাচন হয় নি, একটা মধ্যবর্তী নির্বাচন অবিলম্বে দরকার। দেশের জনগণের মধ্যে আস্থার যে সংকট তৈরি হয়েছে তার একমাত্র সমাধান প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন।

সেই নির্বাচন বিএনপির আগেকার দাবি অনুযায়ী অর্থাৎ নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে কিনা - এ প্রশ্নের জবাবে মি. আলমগীর বলেন, নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু-অবাধ, এবং গ্রহণযোগ্য। তবে সরকার যে সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের যে নজির দেখিয়েছে, তাতে তাদের ওপর আস্থা রাখার কোন কারণ নেই।

তিনি বলেন, এখন যে 'কিম্ভূতকিমাকার' সংসদ আছে তা সাজানো একটা ব্যাপার তাতে গণতন্ত্র কোথায় কার্যকর আছে? "ফ্র্যাংকলি স্পিকিং - একনায়কতন্ত্র হয়ে গেছে" - বলেন তিনি।

মীর্জা ফখরুল বলেন, আলোচনা হলেই সংকট থেকে উত্তরণের পথ বেরিয়ে আসবে। "তবে এখন পর্যন্ত আলোচনার কোন ইঙ্গিতই নেই বরং আপনারা দেখছেন কিভাবে ব্যাপারটাকে উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন কিন্তু এতে সমস্যার কোন সমাধান হবে না ।"