বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান

bbc
ছবির ক্যাপশান, আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ( ফাইল ফটো)
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন,তাদের দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করা হচ্ছে।

তারা উল্লেখ করেছেন, হত্যাকান্ড, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত নেতাকর্মিদের চিহ্নিত করে দলটি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিতে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের সাতজন খুন এবং ফেনীর হত্যাকান্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বলে দলটির অনেকে মনে করেন।

এমন পটভূমিতে সোমবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা মন্ডলী এবং সংসদসদস্যদের যৌথ বৈঠক হয়।

নারায়নগঞ্জে সাতজনকে অপহরণের পর খুনের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তোলে।

এর পর পরই ঘটে ফেনীতে ফুলগাজী উপজেলার চেয়ারম্যানকে হত্যার ঘটনা।

ফেনীর এই লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের পেছনে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয় সামনে এসেছে।

দেশের আরও কয়েকটি জায়গা থেকেও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হত্যাকান্ড, চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির জেরে সংঘর্ষের খবর উঠে আসছে।

এসব ঘটনা সরকার এবং আওয়ামী লীগকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে, দলটির নেতাদের অনেকেই প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য তুলে ধরছেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কিছু লোকের কারণে দল এবং সরকারকেই বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে।

এটা তারা মেনে নিতে পারছেন না।

তিনি বলছিলেন, “যাদের অপকর্মের জন্য দলের এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এই গুটি কয়েক লোকের জন্য সরকার এবং দল বেকায়দায় পড়বে।

এটা সহ্য করা যায় না। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিতে হবে।

এদের অপকর্মের দায় আমরাতো এড়াতে পারবো না। ফলে এ ধরণের লোক দলে রেখে সুনাম নষ্ট করা যায় না।

কাজেই এ ব্যাপারে আমরা এখন কঠোর অবস্থান নিচ্ছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, শুধু ফেনীর ঘটনাই নয়।

আরও যে সব জায়গায় ফেনীর মতো ঘটনা বা চাঁদাবাজি ,টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হচ্ছে।

সে সব ক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামীলীগের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া হয়েছে।

তারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চান।

ফরিদপুর, রাজশাহী এবং রংপুরে আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে এমনটাই মনে হয়েছে।

দলটির সিনিয়র নেতা ওবায়দুল কাদের যেমন দাবি করেছেন, তাদের দলের ভিতরে অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।

তেমনি আওয়ামীলীগের আরেকজন সিনিয়র নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেছেন, দল স্থবির বা নিষ্ক্রিয় থাকলে সরকারকে আমলানির্ভর হতে হয়।

এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দল শক্ত অবস্থান নিচ্ছে বলে তিনিও মনে করেন।

ওবায়দুল কাদের উল্লেখ করেছেন, পরিস্থিতি নিয়ে তাদের দলের উচ্চ পর্যায়ে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে।

এসব আলোচনায় তাদের দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আওয়ামীলীগ দল হিসেবে যখন একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি পার করছে, সেই পটভূমিতে সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠক করেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ এবং সংসদ সদস্য, মন্ত্রীসহ উচ্চ পর্যায়ের সব ফোরামের সদস্যদদরে সাথে।