মানবতাবিরোধী অপরাধে নিজামীর মামলার রায় মঙ্গলবার

matiur rahman nizami
ছবির ক্যাপশান, মতিউর রহমান নিজামী
    • Author, শায়লা রুখসানা
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশে ১৯৭১-এর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে মঙ্গলবার।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার রায়ের এই দিন ধার্য করে। সাবেক মন্ত্রী মি. নিজামীর বিরুদ্ধে এই মামলায় দুই দফায় যুক্তিতর্ক শোনার পর ট্রাইব্যুনাল মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন করে গতবছরের শেষের দিকে।

তার বিরুদ্ধে ১৯৭১এ বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সংঘটিত ১৬টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তবে আসামী পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে।

অপেক্ষমান রাখার সাত মাসেরও বেশি সময় পর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার।

মি. নিজামীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে ট্রাইবুনালের আইনজীবী জিয়াদ আল-মালুম বিবিসিকে জানান, "তার বিরুদ্ধে আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, এবং জোর করে ধর্মান্তরিত করা, দেশান্তরিত করা সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে।"

ট্রাইবুনালের আইনজীবী জিয়াদ আল মালুম বিবিসিকে জানান, এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতে বলা হয়েছে, "মি: নিজামী সেসময় ইসলামী ছাত্র সংঘের নিখিল পাকিস্তানের তিনি সভাপতি ছিলেন এবং এই সংগঠনের নেতা কর্মীদের নিয়ে একাত্তর সালে রাজাকার ও আল-বদর বাহিনী গঠন করে পাবনাসহ সারাদেশেই তাদের দিয়ে অপরাধকর্ম সংগঠিত করেন।"

মি. নিজামীর বিরুদ্ধে ঢাকায় বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগও রয়েছে বলে জানান জিয়াদ আল-মালুম।

মি: নিজামীর উপস্থিতিতেই ট্রাইবুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয় ২০১৩ সালের ১৩ই নভেম্বর । এরপর রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।

ict
ছবির ক্যাপশান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির অবসরে গেলে ট্রাইব্যুনাল এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের বিচারপতি এনায়েতুর রহিম। ট্রাইব্যুনালের বিচারক পরিবর্তন হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে হয়।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে মি: নিজামীকে আটক করা হয়েছিল ২০১০ সালের ২৯শে জুন।

এর দু’বছর তাকে পর তাঁর বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে তার পক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, তিনি বলেন, মি নিজামী কখনোই আল-বদর বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না এবং এই বক্তব্যের সমর্থনে তারা আদালতে তথ্য প্রমাণ তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, "আমাদের বক্তব্য হচ্ছে উনি কখনোই আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন না, বা প্রধান থাকার তো প্রশ্নই নেই। তিনি একাত্তর সালের ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। তারপর তিনি ছিলেন সাধারণ একজন নাগরিক। তবে উনার ভূমিকা ছিল রাজনৈতিক। তিনি অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু কোন অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না।"

মি. ইসলাম আরও বলেন, রাজনৈতিক কারণে সাবেক এই মন্ত্রীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

"উনি যখন ১৯৮৬ সালে নির্বাচনে প্রার্থী হলেন এবং দেখা গেল যে উনি একজন সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন, তখন থেকেই তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো আনা হয়।"

গত ৫ই জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মাহজোট আবারও সরকার গঠন করার পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটাই হতে যাচ্ছে নতুন কোনও রায়।।

মি নিজামীর মামলার রায় ঘোষিত হলে মানবতাবিরোধী অপরাধে এটি হবে ট্রাইবুনালের দশম রায়।

এর আগে নয়টি রায় ঘোষণা করে ট্রাইবুনাল - যার মধ্যে জামায়াতের আরেক নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া আরো ৫টি রায় অপেক্ষমান রয়েছে ট্রাইবুনালে।