চৌধুরী আলম বেঁচে আছেন, আশা পরিবারের

ছবির উৎস, focusbangla
- Author, আহরার হোসেন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
বাংলাদেশের ঢাকায় চৌধুরী আলম নামে এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং বিএনপি নেতা নিখোঁজ হবার চার বছর পর এসেও তার পরিবারের সদস্যরা বলছে তাদের ধারণা মি. আলম এখনো বেঁচে আছেন।
সেই সাথে তার নিখোঁজ হবার সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িত বলেও আগের মতোই ধারণা পোষণ করেন তারা।
চৌধুরী আলম নিখোঁজ হবার চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ ঢাকায় একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বিএনপি। ওই সভায় যোগদান শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসিকে বলেছেন, যে হারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুম খুনের অভিযোগ আসছে তাতে তাদের আশংকা এতে সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে।
তবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, দুএকটি ছাড়া বেশীরভাগ গুম খুনের ঘটনারই কিনারা করেছে পুলিশ।
২০১০ সালের ২৫শে জুন রাতে নিখোঁজ হন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের রমনা শাহবাগ এলাকার তৎকালীন কমিশনার চৌধুরী আলম। তার মেয়ে মাহফুজা আক্তার বিবিসিকে বলছিলেন, ওইদিন রাতেই তিনি টিভির স্ক্রলে খবর দেখেন যে তার বাবাকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা বা ডিবি আটক করে নিয়ে গেছে। বিষয়টি তিনি মাকে জানান এবং পরদিন সকালে বাবার খোঁজ নিতে ডিবি কার্যালয়ে যান। কিন্তু ডিবি মি. আলমকে আটকের কথা অস্বীকার করে। এরপর তাদের কাছে খবর আসে, তার বাবাকে হয়তো র্যাব তুলে নিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু র্যাবের কাছে গিয়েও কোনও তথ্য তারা পাননা। এভাবে দিনের পর দিন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারে দ্বারে তারা ঘুরেছেন, যেখানেই গেছেন সেখান থেকেই তারা একটি শব্দই শুনেছেন: 'জানি না'।
"এই জানি না থেকে শুরু হয়েছে, এবং আজ পর্যন্ত ওনারা কিছুই জানেনা। তবে আমার বাবার গাড়ীর ড্রাইভার আমাদেরকে বলেছে, সেতো নিজেই দেখেছে, আমার বাবার গাড়ীকে আরেকটা গাড়ী গতিরোধ করে তারপর সাদা পোশাকের ৭/৮জন মানুষ বাবাকে গাড়ী থেকে নামিয়ে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।"
মিসেস আক্তার আরো বলছিলেন, বাবাকে না পেলেও এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার মাকে বিভিন্ন সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নিয়ে যায়, এবং উল্টো তাদের কাছেই মিস্টার আলমের হদিস জানতে চায়। এছাড়া বিভিন্ন সময় অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিরা ও তাদেরকে ফোন করে জানান যে তার বাবা বেঁচে থাকার খবর।
"সত্যি বলতে কি এগুলো আমাদেরকে আশা জাগায়। মনে হয় বাবা বেঁচে আছে। নাহলে কি কেউ আমাদের সাথে মজা করবে? আশাতো থাকেই, যেহেতু ওনাকে দেখিনি, মরে গেলে তো পেতাম, তাই না?"
মি. আলমের মতো অনেকটা একই কায়দায় ২০১২ সালে ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন সিলেটের সাবেক এমপি এবং বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী।
গত বছর নভেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকেও বিএনপির দুজন নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজ নিখোঁজ হন যাদের সন্ধান আজো পাওয়া যায়নি। প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠেছে এদেরকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীল সদস্যরা অপহরণ করেছে।
এরকম প্রেক্ষাপটে রবিবার ঢাকার শাহবাগে চৌধুরী আলমের সন্ধান ও মুক্তির দাবিতে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি। ওই অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কথা বলেন বিবিসির সঙ্গে।
তিনি বলেন, "আজকে বাংলাদেশে সবচাইতে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এই গুম আতংক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে যায় তারপর আর তাদের পাওয়া যায় না। এটা প্রতীয়মান হয় যে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এর সাথে জড়িত, বিশেষ করে র্যাবের কথা বেশী বেশী উঠে আসছে। আমাদের যেটা আশংকা সরকারের সমর্থন এরা পাচ্ছে।"
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিবিসিকে বলেন, শুধু বিএনপির নেতারা নিখোঁজ হচ্ছে এমনটি তো নয়, আওয়ামীলীগের নেতারাও তো নিখোঁজ কিংবা হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনার কিনারা করতে সরকার তৎপর বলেও মি. কামাল উল্লেখ করেন।
"এখানে বিএনপি, আওয়ামীলীগ বা জাতীয় পার্টি বলে আমরা আলাদা করে দেখছি তেমনটি নয়। একটি দুটি বাদে সবই আমরা উদঘাটন করেছি।"
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এই বক্তব্য যখন দিচ্ছেন তখন চৌধুরী আলমের নিখোঁজ হবার চার বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হয়েছেন তাও পেরিয়ে গেছে দুই বছর।
বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, গত বছর শেষভাগে আন্দোলনরত থাকার সময় চার মাসে বিএনপির আরো মোট চব্বিশ জন নেতাকর্মী নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের খোঁজও আজো পাওয়া যায়নি।








