পেনাল্টিতে ৩-২ গোলে চিলিকে হারালো ব্রাজিল

ছবির উৎস, AFP
- Author, মোয়াজ্জেম হোসেন
- Role, বিবিসি বাংলা, লন্ডন
- Published
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে চিলিকে হারিয়েছে ব্রাজিল।
এর আগে দুই দলই একটি করে গোল দিলে খেলা আরো আধাঘন্টায় গড়ায়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেনাল্টিতেই শেষ আটে উঠতে হলো পাঁচবারের সাবেক চ্যাম্পিয়নদের।
টাইব্রেকারে চিলির মুরিসিও পিনিইয়া ও আলেক্সিস স্যানচেজের প্রথম দুটি শট ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার সেজার।
আর গনসালো হারার শেষ শট বারে লেগে ফিরে গেলে শেষ আট নিশ্চিত হয়ে যায় ব্রাজিলের।
ব্রাজিলের পক্ষে ডেভিড লুইজ, মার্সেলো আর নেইমার লক্ষভেদ করলেও বাইরে মারেন উইলিয়ান। আর হাল্কের শটটি ঠেকিয়ে দেন চিলির ক্লদিও ব্রাভো।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকর দ্রুতলয়ের এক খেলায় মাত্র ১৮ মিনিটের মাথায় এক গোলে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল।
কিন্তু চিলির স্যানচেজ খেলায় সমতা ফিরিয়ে এনেছেন চমৎকার এক গোল করে।
১৭ মিনিটের মাথায় নেইমারের কর্নার কিক থেকে বল পেয়ে গোলটি করেন ডেভিড লুইজ।
কিন্তু ৩২ মিনিটের মাথায় গোলটি শোধ করে দেন আলেক্সিস স্যানচেজ।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত যেরকম শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের প্রতীক্ষায় ছিলেন, তাদের হতাশ করেনি দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই শক্তিশালী দল।
পরিসংখ্যানে এগিয়ে ব্রাজিল
গত ৯৫ বছরের মধ্যে নিজের দেশের মাটিতে ব্রাজিল যে ২৬ বার চিলির বিরুদ্ধে খেলেছে, তাতে তাদের একবারও হারের রেকর্ড নেই।
কিন্তু তারপরও ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা ভালো করেই জানে, এই রেকর্ড আজকের ম্যাচেও অটুট রাখা কী ভীষণ কঠিন একটা ব্যাপার হবে।
চিলি প্রথম রাউন্ডে আক্রমণাত্মক ফুটবলের যে কৌশল দেখিয়েছে, সেটা শুধু মনোমুগ্ধকরই নয়, তাদের এই হামলা ঠেকানো আসলেই কঠিন। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া গেলবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে চিলি কতোটা অপ্রতিরোধ্য।
গেল বিশ্বকাপের এই একই ধাপে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল চিলি। এর আগে বিশ্বকাপে আরও যে দুবার দুই দেশ মুখোমুখি হয়, সেই দুবারও হেরেছে চিলি।
কিন্তু তারপরও ব্রাজিলের কোচ লুইজ ফেলিপ স্কলারি ভুলতে রাজী নন।
পরিসংখ্যান দিয়ে কিছুই বোঝা যায় না, বলছেন তিনি। “আমার মনে হয় যেদিন থেকে চিলির হাল ধরেছেন কোচ সাম্পাওলি, সেদিন থেকে দলে একটা নতুন গতি এসেছে, অনেক উন্নতি ঘটেছে তাদের খেলার।”
স্কলারি এর আগে খোলাখুলি স্বীকারও করেছেন, ব্রাজিলকে বিশ্বকাপে চিলির মুখোমুখি হতে না হলেই ভালো হতো। বিশেষ করে প্রথম রাউন্ডে জেতার জন্য ব্রাজিলকে যেরকম খাবি খেতে হয়েছে।
পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ওপর আরও একবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যে প্রচন্ড চাপ, স্কলারি ভালো করেই জানেন, সেটার মোকাবেলা কত কঠিন।
তিনি বলেছেন, আমার আত্মবিশ্বাস আমি ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু তারপরও এই ম্যাচে কারও পক্ষেই সহজ থাকা কঠিন।
১৯৬২ সালে বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ ছিল চিলি, সেবার তারা কোয়ার্টার ফাইন্যালে পৌঁছেছিল। এরপর তারা আর ঐ অবধি যেতে পারেনি। কিন্তু তারপরও তাদের আত্মবিশ্বাসে কোন ঘাটতি নেই।
দলের তারকা খেলোয়াড় আলেক্সিস স্যানচেজের ভাষায়, “ব্রাজিলকে আমি সমীহ করি। কিন্তু আজকের খেলায় আমরা তাদের হারাবো। আমরা এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়তে এসেছি।”








