ছিটমহলবাসীর ময়নাতদন্তে ১৯ দিন সময় লাগল
- Author, অমিতাভ ভট্টশালী
- Role, বিবিসি বাংলা, কলকাতা
- Published
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা এক ভারতীয় ছিটমহলবাসীর হত্যার পরে ময়না তদন্ত সম্পন্ন হল আজ – ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পরে।
লালমনিরহাট জেলার অন্তর্গত ভারতীয় ছিটমহল ভোটবাড়ীর বাসিন্দা সেলিনা বেগমের মৃতদেহ ভারতে এনে ময়না তদন্তের জন্য কোচবিহার – লালমনিরহাট-কলকাতা-দিল্লি-ঢাকা – সব জায়গা থেকে অনুমতি আনতে হয়েছে।
মিসেস বেগমের খুনে অভিযুক্ত তাঁর স্বামীকেও এতদিন পরে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে ভারতের পুলিশ।
পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার পুলিশ বলছে লালমনিরহাট জেলার মধ্যে থাকা ভোটবাড়ী ছিটমহলে সেলিনা বেগম খুন হন প্রায় তিন সপ্তাহ আগে। অভিযোগ তাঁর স্বামী রুবেল হকই তাঁকে হত্যা করেছেন।
কোচবিহারের পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট রাজেশ যাদব বলছিলেন, “খবর পেয়ে বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যেমন যোগাযোগ করি আমরা, তেমনই কলকাতায় রাজ্য সরকারের মাধ্যমে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের অনুমতির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকা আর দিল্লি হয়ে মৃতদেহ আজই সীমান্ত পেরিয়ে কোচবিহারে নিয়ে এসে ময়না তদন্তের পরে আবার তা বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে ভারতীয় ছিটমহলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিহত সেলিনা বেগমের স্বামীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছি ওই ছিটমহল থেকে।“
ভারত আর বাংলাদেশের ছিটমহলগুলির মানুষ খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য – সবকিছুর জন্যই পাশ্ববর্তী অন্য দেশটির ওপরে নির্ভর করতে হয়।
সাধারণত কোনও দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-ই ছিটমহলগুলিতে ঢোকে না। তাই মাদক পাচার সহ নানা ধরণের অপরাধমূলক কাজের অভিযোগও আসে ছিটমহলগুলি থেকে।
এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে যে শুধু জীবিত অবস্থায় নয়, মৃত্যুর পরেও ছিটমহলের বাসিন্দা হওয়ার কারণেই সেলিনা বেগমের দেহ নিয়ে পরিবারের দুর্ভোগ অব্যাহত।
ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির প্রধান দীপ্তিমান সেনগুপ্তের কথায়, “সাধারণত এধরণের ঘটনার ক্ষেত্রে দেহের ময়না তদন্ত করে দাফন পর্যন্ত হয়ে যায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে, সেখানে শুধু ময়না তদন্ত করতেই ১৯ দিন লেগে গেল। এরপরে তদন্ত, চার্জশীট, বিচার শেষ হতে কতদিন লাগতে পারে বোঝাই যাচ্ছে।“
মি. সেনগুপ্ত বলছিলেন ছিটমহল বিনিময় যদি এখনই না করা যায়, তাহলে দুই সরকার এমন ব্যবস্থা করুক যাতে ছিটমহলগুলিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আপাতত কিছু বন্দোবস্ত করা যায়।
ভারতের আর বাংলাদেশের মোট ১৬২ টি ছিটমহল রয়েছে – যেগুলির চারদিকে অন্য দেশের এলাকা।
এই ছিটমহলগুলি বিনিময় নিয়ে ১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধী আর মুজিবুর রহমানের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত করার জন্য দুই দেশের সংসদের অনুমতি প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সংসদ এই চুক্তিতে বহু আগেই মত দিলেও প্রায় চল্লিশ বছর ধরে ভারতের সংসদে এই চুক্তি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী পাশ করানো যায় নি।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী যেমন ছিটমহল বিনিময় নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন, তেমনই আপত্তি ছিল বি জে পি-রও।
তবে কয়েকমাস আগে লোকসভা ভোটের প্রচারে গিয়ে ওই ছিটমহল বিনিময় চুক্তিতে সায় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মিজ. ব্যানার্জী।
ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় ওই সংবিধান সংশোধনী বিলটি এখনও আটকে আছে।








