সাতক্ষীরা থেকে বাঘের চামড়া উদ্ধার

ছবির উৎস, focusbangla
- Author, মীর সাব্বির
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা সাতক্ষীরা থেকে দুটি বাঘের চামড়া উদ্ধার করেছে বিশেষ পুলিশ র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন বা র্যাব।
র্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে বাঘের চামড়া দুটি উদ্ধার করেন। এসময় ৬ জনকে আটক করে র্যাব। তাদের কাছে কিছু গুলি পাওয়া গেছে।
আজ একটি সংবাদ সম্মেলন করে তারা অভিযানের খবর সংবাদমাধ্যমগুলোকে জানায়।
র্যাব ৮ এর কর্মকর্তা মেজর আদনান বিবিসিকে জানান, গত এক মাসের মধ্যেই সুন্দরবন থেকে বাঘ দুটিকে হত্যা করে চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।
তিনি বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী হত্যা এবং চামড়া ব্যবসার সাথে জড়িত বলে তারা জানতে পেরেছেন।
আন্তর্জাতিক প্রাণীবিষয়ক সংস্থা, আইইউসিএন ২০১০ সালে রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী হিসেবে ঘোষণা করে। প্রায় ১০ বছর আগের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, সুন্দরবনে প্রায় ৪৪০ টি বাঘ ছিল।
বাঘের চামড়া উদ্ধারের সবশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১১ সালে বাগেরহাটে। বন বিভাগ বলছে, এরপর অনেকদিন অবৈধ বাঘ শিকার না হওয়ায়, এধরণের ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে বলে তারা ধারণা করছিলেন।

কিন্তু আবারো বাঘের চামড়া উদ্ধার হওয়া শংকিত হবার মতো ঘটনা বলেই স্বীকার করছেন বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অঞ্চলের সংরক্ষক তপন কুমার দে।
তিনি বলেন, “আমরা এখন বন বিভাগ এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করার জন্য তৎপর হবো। আমাদের আশেপাশের ক্যাম্প কতটা দায়ী সেটাও আমরা দেখবো।”
মি. দে বলছেন, এর আগে বিষ ব্যবহার করে বাঘ শিকার করার প্রমাণ পাওয়া গেলেও, এবার গুলি করে বাঘ শিকার করা হয়েছে ।
তিনি বলেন, বনদস্যুদের মোকাবিলায় বনরক্ষীদের অস্ত্র এবং পয়োজনীয় যন্ত্রপাতিরও অভাব রয়েছে।
তবে শুধু বনদস্যুরাই নয়, শিকার থেকে শুরু করে এটি বিক্রি পর্যন্ত বেশ বড় একটি চক্র কাজ করছে বলে ধারণা করছে র্যাব।
র্যাব কর্মকর্তা মেজর আদনান বলেন, বনদস্যুরা দুই থেকে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বাঘ শিকার করে এবং এরপর নানা হাত ঘুরে এটি আরো অনেক চড়া দামে বিক্রি হয়। আটককৃতদের সাথে ঢাকায় বড় ক্রেতাদের যোগাযোগ আছে বলেও জানাচ্ছেন এই র্যাব কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, “বিশদ তদন্ত করলে কারা এর পেছনে আছেন এবং কারা অর্থের যোগান দিচ্ছেন তা বেরিয়ে আসবে।”
সারা বিশ্বে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা মাত্র দু'হাজারের মতো। প্রায় দশ বছর আগে করা সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী বিপন্ন প্রজাতির এই বাঘটির ৪৪০ টিরই বসবাস বাংলাদেশের সুন্দরবনে।
তবে বাঘ শিকারসহ বনভূমি কমে যাওয়ার ফলে বাঘের অস্তিত্বও হুমকির সম্মুখীন।
বন কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত: বাঘের চামড়া এবং হাড় বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যেই বাঘ শিকার করে থাকে দুর্বৃত্তরা।








