তুষারঝড়ে আটকেপড়াদের উদ্ধার অভিযান শেষ

চলছে উদ্ধার তৎপরতা
ছবির ক্যাপশান, চলছে উদ্ধার তৎপরতা
Published

নেপালের হিমালয় পর্বতমালায় প্রচণ্ড তুষার ঝড় আর পাহাড়ি ধসের কারণে সেখানে আটকে পড়া ট্রেকার ও পর্বতারোহীদের খোঁজে চালানো উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, এখন তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, বরফের নিচে চাপা পড়ে থাকা মৃতদেহগুলোকে উদ্ধার করা। হিমালয়ের অন্নপূর্ণা এলাকায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা গেছে।

ইতোমধ্যেই চারশোর মতো লোকজন উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন পর্বতারোহী, ট্রেকার, গাইড এবং মালামাল বহনের জন্যে কুলি।

এই তুষার ঝড় শুরু হওয়ার পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেছে, কিন্তু কত লোক সেখানে এই দুর্যোগের শিকার হয়েছেন, কত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, তার কোন সঠিক তথ্য কারও কাছে নেই।

নেপালের অন্নপূর্ণা ট্রেইল পর্বতারোহীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়, ফলে প্রচুর পর্বতারোহী সেখানে ছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

প্রথম দিকে তাদের উদ্ধারের জন্য নেপালের সেনাবাহিনী এবং উদ্ধার কর্মীরা জোর চেষ্টা চালিয়েছে। তবে এখন উদ্ধার কর্মীরা তুষার ঝড়ে নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধারকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র কর্নেল নিরঞ্জন কুমার শ্রেষ্ঠা জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তাদের উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।

কর্নেল নিরঞ্জন কুমার শ্রেষ্ঠ বলেন, সেখান তাদের চলাচলের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে খারাপ আবহাওয়া এবং ভারী তুষারপাত। আর যদি স্থলপথে সেনা পাঠানো না যায়, তাহলে অনেক খবরের সত্যতাই যাচাই করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, কোন আহত লোকের সংবাদ পেলে সেখানে সাথে-সাথেই আকাশ পথে সাহায্য পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু মৃতদেহ পাওয়ার সংবাদ পেলে তাদের আগে সেটা যাচাই করতে হচ্ছে, তারপর তারা লোক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

নেপালে গত এক দশকের মধ্যে এরকম ভয়ংকর তুষার ঝড় আর হয়নি। তুষার ঝড় শুরুর পর মাত্র বারো ঘণ্টার মধ্যে প্রায় এক দশমিক আট মিটার তুষারপাত হয়েছিল।

অন্নপূর্ণায় যেদিন তুষার ধ্বসে ট্রেকাররা মারা যান, সেদিন সেখানে ট্রেকিং করতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের একজন পর্যটক মিঠুন দাস।

ঘটনার পর তিনি সেখান থেকে পোখারায় ফিরে আসেন। তিনি বলছিলেন, এই তুষার ঝড়ের কোন আগাম সতর্ক সংকেত ছিল না

এ তুষার ঝড় শুরু হওয়ার পর এপর্যন্ত উদ্ধার কর্মীরা প্রায় চারশো পর্বতারোহী এবং গাইডকে উদ্ধার করেছে। এদের অনেকেই ফ্রস্টবাইটে আক্রান্ত। এদের অনেকের হাত পা কেটে ফেলতে হবে।

যেসব পর্বতারোহী সেখানে তুষার ঝড় বা ভূমিধ্বসে নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে নেপাল, জাপান, ইজরায়েল, কানাডা, ভারত, ভিয়েতনাম এবং পোল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।