সরকারি নির্দেশে সব মেডিকেল কোচিং সেন্টার বন্ধ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
ছবির ক্যাপশান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
    • Author, শারমিন রমা
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ২৪শে অক্টোবর নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষিতে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব মেডিকেল কোচিং সেন্টারগুলো আজ দ্বিতীয় দিনের মত বন্ধ রয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব মেডিকেল কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সরকার বলছে, দেশের কোচিং সেন্টারগুলো ভর্তির বিষয়ে শতভাগ কমন সাজেশনসহ নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং এদের যোগসাজশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এজন্যেই এধরনের সতর্কতামুলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রশ্নপত্র যেখানে ছাপা হয়, সতর্কতা সেখানেই নেয়া দরকার। কোচিং সেন্টার বন্ধ করে সমস্যা সমাধান হবেনা।

এ নির্দেশনা সোমবার রাত থেকেই কার্যকর করে শুক্রবার পর্যন্ত তা বহাল রাখা হচ্ছে।

কিসের ভিত্তিতে এমন একটি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার?

এর জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এম নিয়াজউদ্দীন জানান, "বিভিন্ন সময় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে দেখা গেছে, দেশের কোচিং সেন্টারগুলো ভর্তির বিষয়ে শতভাগ কমন সাজেশনসহ নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং এদের যোগসাজশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে থাকে। এজন্যেই এধরনের সতর্কতামুলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে"।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করছেন মেডিকেল কোচিং সেন্টারের কর্মকর্তারা।

ভর্তি পরীক্ষার শতভাগ কমন সাজেশন দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালক মোহাম্মদ বারী ইউসুফ বলেন, এধরনের কোনও প্রতিশ্রুতি তার প্রতিষ্ঠান দেয়না।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কোচিং সেন্টার বিভিন্ন স্লোগান ব্যবহার করে থাকে তবে তাদের শিক্ষা পদ্ধতি বই নির্ভর।

তবে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এভাবে অসৎ কোচিং ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম থামিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করেন অনেক কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ।

ঢাকার আরেকটি কোচিং সেন্টারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ তুহিন মৃধা মনে করেন, অপকর্ম যারা করবে, তারা এখনও করছে, কারণ তাদের কাছে শিক্ষার্থীদের পূর্ণ তথ্য থাকে বলে কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকলেও যে কোন উপায়ে তারা শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছেন।

তিনি বলেন, প্রশ্নগুলো যেখানে ছাপা হচ্ছে সেখানেও সতর্ক ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ছাপানোর ক্ষেত্রেও সতর্কতামুলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব।

মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে কিভাবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা? আর লেখাপড়ার জন্য এসব কোচিং সেন্টারের উপর কতটা নির্ভরশীল তারা?

এবিষয়ে ঢাকার একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী ওয়াফা বলেন, ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে কোচিং সেন্টারগুলো যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়, সেটা আসলে কাজে লাগেনা।

দেশের বিভিন্ন কোচিং সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কথা জানা থাকলেও এসব কোচিং সেন্টারের দেয়া প্রতিশ্রুতির ভিত্তি সম্পর্কে জানেননা অনেক শিক্ষকও।

স্থানীয় একটি কলেজের অধ্যাপক মামুন মজুমদারের মতে, শতভাগ কমন সাজেশন দেয়ার কথা বলা হলেও ভর্তি পরীক্ষায় আসলে শতভাগ প্রশ্ন কমন পড়েনা।

এবছর মোট ১০ হাজার ২২৭টি আসনের বিপরীতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফরম নিয়েছেন প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থী।

এবছর থেকেই ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষায় পাস নম্বর কুড়ি থেকে বাড়িয়ে ৪০ করা হয়েছে।