বিদ্যুৎ ফিরছে, তবে এখনো বিপর্যস্ত জীবনযাত্রা

ছবির উৎস, bbcbangla
বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে ত্রুটির কারণে আজ সকাল থেকে সারা দেশে যে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে, তা এখনো অব্যাহত। তবে সন্ধ্যার পর থেকে রাজধানী ঢাকা ও তার বাইরে বেশ কিছু এলাকায় আংশিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।
কিন্তু এখনো দেশের বহু এলাকাই অন্ধকারে ডুবে আছে। শহরের বাড়িঘরে আলো, পাখা, লিফট, পানির পাম্প, ফ্রিজ, টিভি, কম্পিউটার, ইন্টারনেট - সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গুরুতর দুর্ভোগের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়েছেন সাধারণ লোকেরা।
রাত ১১ টা পর্যন্ত ঢাকার বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়েছে। শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। বিভিন্ন জেলা শহরে আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন।
মধ্যরাত নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি জানান, রাত ১০ টা নাগাদ তারা ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করতে সমর্থ হয়েছেন।

ছবির উৎস, internet
আট ঘন্টার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থার মধ্যে অফিস-কারখানা ও দোকানপাটে কোখাও জেনারেটর, আবার কোথাও মোমবাতি দিয়ে কাজকর্ম চলেছে। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা কার্যক্রম গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়। সাধারণ মানুষ পানির সংকট সহ নানা ধরণের দুর্ভোগে পড়েছেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপমহাপরিচালক ডা. মুশফিকুর রহমান বলছেন, জেনারেটর দিয়ে অতি প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী সেবাগুলো তারা কোনমতে চালু রেখেছেন, তবে লিফট চলছে না। ডা. রহমান বলেন, পানি সংকটের কারণে তারা রোগীদের রাতের খাবার তৈরী করতে পারেননি।
রাজশাহীর সাংবাদিক আনোয়ার আলী হিমু বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দুপুরের পর থেকে শহরের বিভিন্ন বাসায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে লোকজনকে মোমবাতি জ্বালিয়ে কাজ করতে দেখা যায়।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ছাড়াও বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঢাকার ব্যবসায়ী আসিফ ইব্রাহিম বলছিলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আশুলিয়ায় তার গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে প্রায় সারাদিনই কাজ হয়নি, কারণ জেনারেটর দিয়ে ঘন্টাদুয়েকের বেশি কাজ চালানো যায় না। একই অবস্থা ছিল শিল্প এলাকাটির প্রায় সবগুলো কারখানাতেই।
এর আগে বেলা ১১ টার কিছু পরে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
ঠিক কি কারণে এই বিপর্যয় তা এখনো স্পষ্টভাবে বলতে পারছেন না কর্মকর্তারা। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্কার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশের ভেড়ামারা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেই সমস্যার সূত্রপাত।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, উত্তরাঞ্চলে একটি সিস্টেম 'ট্রিপ' করা বা বসে যাওয়াতেই জাতীয় গ্রিডে সমস্যা দেখা দেয়, এবং দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রই একে একে বন্ধ হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।








