বিপর্যয়ের পর ফিরতে শুরু করেছে বিদ্যুৎ

bd power
Published

বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে ত্রুটির কারণে শনিবার সারাদিন ভোগান্তির পর মধ্যরাত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরতে শুরু করেছে।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মধ্যরাতের পর থেকেই বিদ্যুৎ আসতে শুরু করেছে। এরপর থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

ঢাকার বাইরে বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলেও, কর্মকর্তারা বলছেন, সারাদেশে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে রবিবার পর্যন্ত সময় লাগবে।

শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে জাতীয় গ্রিডে ক্রুটির কারণে সারাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ভেঙ্গে পড়ে।

শহরের বাড়িঘরে আলো, পাখা, লিফট, পানির পাম্প, ফ্রিজ, টিভি, কম্পিউটার, ইন্টারনেট - সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গুরুতর দুর্ভোগের মধ্যে ঘন্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছেন সাধারণ লোকেরা।

bd electricity

বিদ্যুৎবিহীন অবস্থার মধ্যে অফিস-কারখানা ও দোকানপাটে কোথাও জেনারেটর, আবার কোথাও মোমবাতি দিয়ে কাজকর্ম চলেছে। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা কার্যক্রম গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়। সাধারণ মানুষ পানির সংকটসহ নানা ধরণের দুর্ভোগে পড়েছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপমহাপরিচালক ডা. মুশফিকুর রহমান বলছেন, জেনারেটর দিয়ে অতি প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী সেবাগুলো তারা কোনমতে চালু রেখেছেন, তবে লিফট চলছে না। ডা. রহমান বলেন, পানি সংকটের কারণে তারা রোগীদের রাতের খাবার তৈরী করতে পারেননি।

রাজশাহীর সাংবাদিক আনোয়ার আলী হিমু বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দুপুরের পর থেকে শহরের বিভিন্ন বাসায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে লোকজনকে মোমবাতি জ্বালিয়ে কাজ করতে দেখা যায়।

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ছাড়াও বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঢাকার ব্যবসায়ী আসিফ ইব্রাহিম বলছিলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আশুলিয়ায় তার গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে প্রায় সারাদিনই কাজ হয়নি, কারণ জেনারেটর দিয়ে ঘন্টাদুয়েকের বেশি কাজ চালানো যায় না। একই অবস্থা ছিল শিল্প এলাকাটির প্রায় সবগুলো কারখানাতেই।

এর আগে বেলা ১১ টার কিছু পরে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

ঠিক কি কারণে এই বিপর্যয় তা এখনো স্পষ্টভাবে বলতে পারছেন না কর্মকর্তারা। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্কার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশের ভেড়ামারা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেই সমস্যার সূত্রপাত।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, উত্তরাঞ্চলে একটি সিস্টেম 'ট্রিপ' করা বা বসে যাওয়াতেই জাতীয় গ্রিডে সমস্যা দেখা দেয়, এবং দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রই একে একে বন্ধ হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।