ইবোলা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অর্থ জাতিসংঘের নেই

ছবির উৎস, Reuters
ইবোলা মোকাবিলার দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতিসংঘের একটি মিশনের প্রধান বলছেন, এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে আনার মতো অর্থ ও সরঞ্জাম তার হাতে এখনো নেই।
পশ্চিম আফ্রিকার তিনটি ইবোলা আক্রান্ত দেশ সফর করে আসার পর টোনি ব্যানবেরি বলেন, তার জরুরি ভিত্তিতে আরো সহায়তা দরকার।
ইবোলা মহামারীতে এখন পর্যন্ত চার হাজার আটশোরও বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে যার বেশিরভাগই ঘটেছে সিয়েরা লিওন, গিনি এবং লাইবেরিয়া এই তিনটি দেশে।
ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে কয়েকটি দেশের ভূমিকার প্রশংসা করছেন জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা।
সংস্থাটির যে মিশন এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াই করছে তার প্রধান তিনি।
টনি ব্যানবেরি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও কিউবার প্রশংসা করে বলেছেন এই তিনটি দেশ সবচেয়ে বেশি সৈন্য ও চিকিৎসাকর্মী পাঠিয়েছে।
সিয়েরা লিওনে ব্রিটেনের নতুন একটি চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

ছবির উৎস, Getty
পশ্চিম আফ্রিকার যে তিনটি দেশে এই ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে সেই তিনটি দেশ সফর করে এসে মি: ব্যানবেরি বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরী ভিত্তিতে তার আরো সাহায্যের প্রয়োজন।
কোনো কোনো এলাকায় এই রোগ এখনও বড় ধরনের সঙ্কট। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
এমনও লোকজন আছেন, গ্রাম ও শহর আছে যেখানে মানুষজন কোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছে না।
"এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সমাজ থেকেও যথাযথ সাহায্য পাচ্ছিনা। এই রোগটিকে পরাজিত করার জন্যে সারা বিশ্ব থেকেও বড়ো ধরনের সাহায্য পাওয়া যায়নি। আমাদের আরো সম্পদের প্রয়োজন যাতে আমরা আরো বিস্তৃত এলাকাজুড়ে কাজ করতে পারি। এবং এই রোগটা যেখানেই থাকুক না কেনো সেখানেই যেনো এটাকে নির্মূল করা যায়"।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত চার হাজার আটশো আঠারো জন নিহত হয়েছে। এই সংখ্যা গত সপ্তাহে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে সামান্য কম।
ইবোলায় যতো লোক আক্রান্ত হয়েছে বলে বলা হচ্ছে সেই সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যে অনেক জায়গাতে এই ভাইরাসের সংক্রমণ থিতু হয়ে এসেছে।
সংবাদদাতারা বলছেন, ইবোলা মোকাবেলায় যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার যে একটা প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এসব পরিসংখ্যানে তার ইঙ্গিতটাই স্পষ্ট।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ক্ষুদ ক্ষুদ্র এসব সাফল্য সত্ত্বেও থেমে যাওয়ার সময় এখনও আসেনি। কারণ প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এখনও প্রবল। কারণ আক্রান্ত বহু মানুষের খোঁজই এখনও পাওয়া যায়নি।








