গোপালগঞ্জের পুলিশ নিয়ে মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ডিএমপি

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান
ছবির ক্যাপশান, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান
Published

একটি ‘বিশেষ জেলা’র পুলিশ কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা মেট্রেপলিটন পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

একটি জেলার পুলিশ সদস্যরা কি আইনের উর্ধ্বে? পুলিশের গুলিতে আহত এক তরুণকে দেখতে গিয়ে এই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। যদিও তিনি এই জেলার নাম বলেন নি, সবাই ধারণা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ জেলা ‘গোপালগঞ্জের কথাই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।

মিজানুর রহমান বলেন, একটি নির্দিষ্ট জেলার পুলিশ কর্মকর্তারা যে উদ্ধত আচরণ করেন তা মেনে নেয়া যায় না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে এই জেলার নাম ব্যবহার করে পুলিশ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে হেয় করার চেষ্টা করছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আজ এক বিবৃতিতে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের এই মন্তব্যের জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে। ডিএমপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর ফলে পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে যেতে পারে এবং জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট হতে পারে।

তবে মিজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় এটা স্পষ্ট যে কেউ কেউ একটি নির্দিষ্ট জেলার পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন।

“কিছুদিন আগে মিরপুরের একটি ঘটনায় সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এমন কিছু কর্মকান্ড করেছিলেন, সেগুলো মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন। তারপর উনি দম্ভ করে বলেছিলেন যে, তিনি এমন জায়গা থেকে এসেছেন, তাকে কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। এ ধরণের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার পর জনমনে ধারণা হযেছে যে, তারা এটাকে একটা ঢাল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে এবং এতে করে সরকারের সুনাম বিনষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যে হেয় করবার একটা অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যায় এটা বলাই বাহুল্য।”

গোপালগঞ্জ বিতর্ক

বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীতে গোপালগঞ্জ জেলা থেকে আসা পুলিশ সদস্যদের আচরণ নিয়ে এরকম ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এর আগে করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়া।

গত বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া যখন প্রায় গৃহবন্দী অবস্থায় ছিলেন, তখন সাংবাদিকরা তাঁর বাড়িতে ভিড় করেন খোঁজ-খবর নিতে। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেয়ার সময় সেখানে নিয়োজিত মহিলা পুলিশ সদস্যদের উচ্চ স্বরের কথাবার্তায় বিরক্ত হন খালেদা জিয়া। তখন তিনি তাদের ধমক দিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, তারা গোপালগঞ্জের কিনা।

ডিএমপির বিবৃতিতে খালেদা জিয়ার ঐ মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়, ‘ডঃ মিজানুর রহমান একই সুরে একটি জেলাকে কটাক্ষ করে করা মন্তব্য যেন সেটারই প্রতিধ্বনি।

ডিএমপি আরও বলেছে, হাসপাতালে চিকিৎসারত এক আসামীকে আদালতের অনুমতি ছাড়া দেখতে গিয়ে আইন ভঙ্গ করেছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।

উল্লেখ্যে, ড: মিজানুর রহমান হাসপাতালে নাফিস সালাম নামে যে তরুণকে দেখতে যান, তিনি পুলিশের গুলিতে আহত হন বলে অভিযোগ করেছেন। পুলিশ অবশ্য দাবি করছে, নাফিস একটি ইসলামী জঙ্গী সংগঠনের সদস্য।