সচিনের আত্মজীবনী লেখা হলো যেভাবে

আত্মজীবনীর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে স্ত্রী অঞ্জলির সঙ্গে সচিন
ছবির ক্যাপশান, আত্মজীবনীর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে স্ত্রী অঞ্জলির সঙ্গে সচিন
    • Author, শাকিল আনোয়ার
    • Role, বিবিসি বাংলা, লন্ডন
  • Published

সচিন টেনডুলকারের আত্মজীবনী প্লেয়িং ইট মাই ওয়ের সহ-লেখক হিসাবে কাজ করেছেন ক্রিকেট গবেষক, লেখক এবং ভাষ্যকার বরিয়া মজুমদার।

২০১১ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে সাড়ে তিন বছর ধরে দুজনে মিলে রচনা করেছেন দেড় লাখ শব্দের এই আত্মজীবনী।

সচিনের মত এত বিশাল এক ক্রিকেট তারকার সাথে, তাকে নিয়ে এই জীবনী গ্রন্থ লেখার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল।

বিবিসি বাংলার শাকিল আনোয়ারের সাথে এক সাক্ষাৎকারে, বরিয়া মজুমদার বলেন, প্রধানত দুটো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।

সচিনের সঙ্গে আত্মজীবনীর সহ-লেখক বরিয়া মজুমদার
ছবির ক্যাপশান, সচিনের সঙ্গে আত্মজীবনীর সহ-লেখক বরিয়া মজুমদার

এক, সচিনের না জানা দিক খুঁজে বের করা। দুই, সচিন যেভাবে কথা বলেন, সেই ভাষা ব্যবহার করে বইটি লেখা যাতে পাঠক বোধ করেন যাতে প্রতিটি বাক্য যেন সচিনই তাদের বলছেন।

"সচিনকে নিয়ে এত বেশি কথা, এত বেশি লেখালেখি, এত বেশি আগ্রহ যে আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল কিভাবে তাঁর জীবনকে তুলে ধরা সম্ভব যে জীবন মানুষ জানেনা।"

বরিয়া বলেন, বইটিতে এমন অন্তত দুশটি ঘটনার কথা আছে যেটা মানুষ কখনই জানতো না।

উদাহরণ হিসাবে স্ত্রী অঞ্জলীর সাথে প্রথম সাক্ষাতের কথা বলেন তিনি।

রক্ষণশীল পরিবার হওয়ায়, প্রথমদিন অঞ্জলী সচিনের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন একজন মহিলা সাংবাদিকের ছদ্মবেশে। দুজনে সেটা পরিকল্পনা করেছিলেন।

"অঞ্জলীকে আপ্যায়ন করতে গিয়ে সচিন এতটাই নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলেন যে কিছু না পেয়ে ইংল্যান্ডে থেকে আনা দুটো চকলেট ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে তা প্লেটে সাজিয়ে অঞ্জলীর সামনে হাজির করেছিলেন।"

লেখক হিসাবে বরিয়া মজুমদারের আর যে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল তা হলো ভাষা। সচিন যেভাবে কথা বলেন সেই ভাষা ব্যবহার করে বইটি লেখা যাতে পাঠক বোধ করেন যাতে প্রতিটি বাক্য যেন সচিনই তাদের বলছেন।

একারণে দুজনের ১৩৫ ঘন্টার কথপোকথন রেকর্ড করা হয়েছিলো। "আমি আমার ইংরিজি লিখতে চাইনি। আমি চেয়েছি মানুষ যেভাবে টিভিতে সচিনেকে কথা বলতে দেখেন, বই পড়েও যেন তারা সেই সচিনকেই উপলব্ধি করেন।"

কৈশোরে ব্যাট হাতে সচিন
ছবির ক্যাপশান, কৈশোরে ব্যাট হাতে সচিন

সচিন কি কোনো কিছু গোপন করতে চেয়েছেন?

বরিয়া মজুমদার বলেন, শুরু থেকেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তথ্য প্রমাণ নেই এমন কোন বিষয় তারা বইতে আনবেন না।

এ প্রসঙ্গে ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ তুলে মি মজুমদার জানান, যেহেতু সচিনের কাছে কোনো প্রমাণ নেই তাই এ প্রসঙ্গে কোনো ক্রিকেটারের নাম করা হয়নি।

বইয়ের নামকরণ কিভাবে হয়েছিল? বরিয়া মজুমদারের ভাষ্যমতে, সচিন, তিনি এবং প্রকাশক মিলে সেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। "তবে শেষ সিদ্ধান্ত ছিল সচিনের, তিনি পছন্দ করেছিলেন বলেই বইয়ের টাইটেল ঠিক হয় প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে।