আবদুল জব্বারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিলো ট্রাইব্যুনাল

Published

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যূনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল জব্বারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে।

আদালত বলেছে অপরাধ মৃত্যুদন্ডযোগ্য হলেও বয়স বিবেচনায় তাকে এ শাস্তি দেয়া হয়েছে।

রায়ে চারটি অভিযোগে মিস্টার জব্বারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং একটিতে ২০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তবে মিস্টার জব্বার পলাতক রয়েছেন। তাকে পলাতক ঘোষণা করে গত বছর ১৪ই আগস্ট তার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়েছিলো।

এর আগে পাঁচ ধরনের মানবতা বিরোধী অপরাধের ঘটনায় ২০১৪ সালের পহেলা মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গত ১২ই মে জব্বারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

কিন্তু গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় এরপর নিয়ম অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

তাতেও তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির না হওয়ায় বিচারক তাকে ‘পলাতক’ ঘোষণা করে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু করেন।

তার বিরুদ্ধে আনীত প্রথম অভিযোগ হলো- ১৯৭১ সালের ১৬ই মে মঠবাড়িয়া ফুলঝুড়ি গ্রামের আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাস ও মোতালেবের বাড়িতে হামলা চালিয়ে গুলি করে রাজ্জাককে হত্যা।

একি দিন সন্ধ্যায় নাথপাড়া ও কুলুপাড়ার শতাধিক বাড়ি লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

দ্বিতীয় অভিযোগ হলো ফুলঝুড়ি গ্রামের সারদা কান্তি পাইককে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেয়া। পাকিস্তানী সেনা ও রাজাকাররা গ্রামের প্রায় ৩৬০ টি ঘরবাড়ি লুট ও অগ্নিসংযোগ করে।

তৃতীয় অভিযোগ হলে নিজের পিস্তল দিয়ে নলীগ্রামে সুখনাথকে গুলি করে হত্যা। তার নির্দেশে ১১জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে গুলি করে হত্যা।

চতুর্থ অভিযোগ ফুলঝুড়ি গ্রামের প্রায় দুশ হিন্দুকে ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করা।

পঞ্চম অভিযোগ ১৯৭১ সালের ৬ ও ৭ই অক্টোবর মিস্টার জব্বারে নির্দেশে রাজাকাররা আঙ্গুলকাটা ও মঠবাড়িয়া থেকে ৩৭জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে অপহরণ করে, যার মধ্যে ২২জনকে পরে হত্যা করা হয়। নির্যাতনের শিকার হন আরও ১৫ জন।

মিস্টার জব্বার ৮৬ ও ৮৮ সালে সেই সময়কার ক্ষমতাসীন দল জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পলাতক আবদুল জব্বার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা প্রবাসী।