নেপালে ভূমিকম্পে নিহত প্রায় ২ হাজার, চলছে উদ্ধার প্রচেষ্টা

ছবির উৎস, Other
নেপালে শনিবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পের ২৪ ঘন্টা পরে সর্বশেষ পাওয়া খবরে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
এর মাঝে আজ আবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে নেপাল, বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন এলাকায়।
এ্রই কম্পনের কেন্দ্র ছিল নেপালের কোডারি এলাকায় এবং রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৬।
এদিকে নিহতের সংখ্যা আরও তিনগুণ বাড়তে পারে বলে দেশটির সরকার আশংকা করছে।
কারণ বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে, আর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছে অনেকে।
রাজধানী কাঠমান্ডু ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ হিসেবে আহত হয়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ।
এদিকে নেপালে আশি বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর দেশটিতে জরুরি উদ্ধার তৎপরতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এই দুর্যোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো সহায়তার জন্য এগিয়ে এসেছে।
উদ্ধার কর্মীরা শনিবার রাতভর ধ্বংসস্তূপ থেকে আটকে পড়া লোকজনকে বের করে আনতে অনেক ক্ষেত্রে খালিহাতেই চেষ্টা চালিয়ে যান।
হাসপাতালে জায়গা নেই

ছবির উৎস, epa
শত শত মৃতদেহ নিয়ে আসা হচ্ছে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে। একই সাথে বাড়ছে আহতদের সংখ্যাও।
আজ রোববার প্রচুর আহতদের বের করে নিয়ে আসতে থাকায় চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ অপ্রতুল হয়ে পড়েছে।
অনেককেই খোলা আকাশের নিচে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এভারেস্টে ১৭ জনের মৃত্যু
হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে বরফ ধসে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এভারেস্টের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক বিপর্যয় বলা হচ্ছে একে।
হেলিকপ্টারে করে এভারেস্টের 'বেস ক্যাম্প' থেকে পর্বত আরোহীদের নিরাপদে সরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা
ভূমিকম্পের পর নেপালকে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশসহ অনেক দেশ।
এর মধ্যেই ওষুধ, উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে ভারতে কয়েকটি বিমান নেপাল পৌঁছেছে।
এর আগে দেশটির তথ্যমন্ত্রী মীনেন্দ্র রিজ্জাল বলেন, এই বিপর্যয়ের মোকাবিলায় তার দেশের আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।
শনিবার সকালের দিকে সাত দশমিক নয় মাত্রার ভূমিকম্প নেপালে আঘাত হানে।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ও পোখারার মাঝখানে লামজুং এলাকায় ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল।
কাঠমান্ডু, ভক্তপুর, গোরখা, লামজুং ইত্যাদি ঘনবসতিপূর্ণ জায়গাগুলোয় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রাজধানী কাঠমান্ডুর ঐতিহ্যবাহী ধারাহারা টাওয়ার সহ বহু ভবন এবং অনেকগুলো প্রাচীন মন্দির ধ্বংস হয়ে গেছে।
রাজধানীর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেয়া হয়।
নেপাল ছাড়াও সমগ্র উত্তর ভারত, চীনের তিব্বত অঞ্চল, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ জুড়ে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।








