রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য চায় নাগরিক সংগঠন

bd_citizens_reform_proprosal
ছবির ক্যাপশান, উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজের সংবাদ সম্মেলন। ছবি:ফোকাসবাংলা
Published

বাংলাদেশের একটি নাগরিক সংগঠন 'প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য' আনার জন্য কিছু সাংবিধানিক সংস্কার করার আহ্বান জানিয়েছে।

উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ নামের এই সংগঠনটির নেতারা আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে কিছু প্রস্তার তুলে ধরেন।

এর মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের পূর্ণ স্বাধীনতা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের ভারসাম্য আনা; প্রধানমন্ত্রীর কর্তব্য-দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণ করা, সরাসরি নির্বাচনে নারীদের জন্য সংসদীয় আসন সংরক্ষণ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি। এছাড়া বিচারবিভাগ, জাতীয় সংসদ, নির্বাচন কমিশন, পিএসসি, আমলাতন্ত্র ইত্যাদি ক্ষেত্রে সংস্কারেরও প্রস্তাব দেয়া হয়

সংগঠনটির আহ্বায়ক এবং সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা পরে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তারা এই সংস্কারের সুপারিশ করছেন কারণ তাদের মতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা এসে গেছে - যার কিছু চেক এ্যান্ড ব্যালান্স থাকা উচিৎ।

bd_citizens_reform_proprosal
ছবির ক্যাপশান, এ টি এম শামসুল হুদা । ছবি:ফোকাসবাংলা

এ জন্যেই যেহেতু রাষ্ট্রপতির পদটি আছে তাই কিছু কিছু দায়িত্ব এবং ক্ষমতা তার হাতে থাকা উচিৎ, বলেন মি. হুদা।

"যেমন সংসদে কোন আইনের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির কোন ভিন্নমত থাকলে তা পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা, বিভিন্ন বড় বড় পদে সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে মতামত দেয়ার ক্ষমতা ইত্যাদি - বর্তমানে যা নেই।"

মি. হুদা উল্লেখ করেন, এরকম ক্ষমতা না থাকায় এবছরের শুরুর দিকে তিন মাস ধরে দেশে সহিংসতা-সংকট চললেও রাষ্ট্রপতি কোন ভূমিকাই পালন করতে পারেন নি। আমরা একটি চিঠি দিয়েছিলাম, তারও কোন জবাব আসে নি।

তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো শুধু নির্বাচনের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দিচ্ছে বলে গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা ব্যহত হচ্ছে।

শামসুল হুদা আরো বলেন, এসব সংস্কার করার জন্য অবশ্যই সংবিধানের সংশোধনী দরকার হবে।